চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ছনুয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি আমান উল্লাহ আনুকে গুম ও হত্যা মামলার অন্যতম আসামি ইসমাইলুর রহমানকে (২৫) গ্রেফতার করেছে ইমিগ্রেশন পুলিশ। তিনি সম্পর্কে নিহত আমান উল্লাহ আনুর শ্যালক।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) গ্রেফতারের বিষয়টি জানাজানি হয়। এর আগে শুক্রবার চট্টগ্রাম শাহ আমানত বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। ইসমাইলুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে প্রবাসে পালিয়ে ছিলেন এবং আইনের চোখ ফাঁকি দিয়ে দেশে যাতায়াত করতেন। তিনি ছনুয়া ইউনিয়নের আমির পাড়ার মৃত গোলাম রহমানের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আমান উল্লাহ আনুকে অপহরণ ও গুম করার পর ইসমাইলুর রহমান সংযুক্ত আরব আমিরাতে পালিয়ে যান। ২০১৯ সালে দেশ ছাড়ার পর তিনি মাঝেমধ্যেই দেশে আসতেন এবং আবার প্রবাসে ফিরে যেতেন। ইসমাইলের যাতায়াত ঠেকাতে মামলার বাদী ও নিহত আমান উল্লাহ আনুর বড় বোন মমতাজ বেগম ইমিগ্রেশন পুলিশ বরাবর একটি লিখিত চিঠি দেন।
ইসমাইলকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েত চৌধুরী জানান, দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর ইসমাইলুর রহমান প্রবাস থেকে দেশে ফিরলে ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে।
তিনি আরও জানান, ইমিগ্রেশন পুলিশ যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আসামিকে আনোয়ারা থানায় হস্তান্তর করেছে। তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অধিকতর তদন্তের স্বার্থে ইসমাইলুর রহমানের ৫ থেকে ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হবে বলে।
মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, আমান উল্লাহ আনুকে হত্যার পর লাশ গুমের ঘটনায় ছনুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান এম. হারুনুর রশীদ ও তার ছোট ভাই আলমগীর কবিরসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন মমতাজ বেগম। গত ২০২৪ সালের ১৯ আগস্ট চট্টগ্রাম চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলাটি করা হয়। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আনোয়ারা থানাকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন প্যানেল চেয়ারম্যান আরফাতুল ইসলাম এমরান, পুতু চৌধুরী, ইউনিয়ন মৎস্যজীবী লীগের সভাপতি আবদুল আজিজ টিপু, আবদুল মোমেন, আবদু সাত্তার, মো. হেলাল উদ্দিন এবং রোজিনা আক্তার। মামলার এজাহারে মমতাজ বেগম উল্লেখ করেছেন, আসামিরা সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত এবং তারা একটি সংঘবদ্ধ অপহরণকারী চক্রের সদস্য।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০১৯ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা চট্টগ্রাম শহর থেকে বাঁশখালী ফেরার পথে আমান উল্লাহ আনুকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রাখা হয়। এরপর ১২ ফেব্রুয়ারি আনোয়ারা থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করে তার পরিবার। ২০ ফেব্রুয়ারি ফোন করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। তবে টাকা দেওয়ার পর আমান উল্লাহ আনুকে ছাড়া হয়নি। এরপর ৩ মার্চ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তাকে ছনুয়া ইউপি চেয়ারম্যান এম. হারুনুর রশীদের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে চেয়ারম্যান এম. হারুনুর রশীদের নির্দেশে তাকে হত্যা করে লাশ টুকরো টুকরো করে বঙ্গোপসাগরে ফেলে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ২০১৯ সালের ৪ মার্চ চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি বরাবর অভিযোগ করেন আমান উল্লাহ আনুর বোন মমতাজ বেগম। আদালত পিবিআইকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। পরে আসামিদের ভয়ভীতি ও হুমকির কারণে বাদী মমতাজ বেগম মামলা চালাতে ব্যর্থ হন, ফলে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়।
মমতাজ বেগম জানান, আসামিরা আওয়ামী লীগের ছত্রছ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল এবং স্থানীয়রা তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলায় সাক্ষী হতেও ভয় পেতেন।
পরে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাসীন সরকারের পতন হলে গুম-খুনের বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়। আমান উল্লাহ আনু হত্যার বিচারের আশায় পুনরায় মামলা দায়ের করেন মমতাজ বেগম।
সময়ের আলো/আআ