ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে সিরাজগঞ্জে জামায়াত-বিএনপি সমর্থকদের মধ্যে দ্বন্দ্বের জেরে মসজিদে তালা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে মুসল্লিরা বাধ্য হয়ে মসজিদের বাইরে খোলা স্থানে নামাজ আদায় করেছেন।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সদর উপজেলার বাগবাটি ইউনিয়নের পেঁচিবাড়ি জামে মসজিদের এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ মসজিদ কমিটির উপস্থিতিতে তালা ভেঙে মুসল্লিদের নামাজের ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইমাম সাহেবের কেরাত অনেকের কাছেই পছন্দ না। ১২ ফেব্রুয়ারির পর গ্রামের বেশিরভাগ লোকজন ওই ইমামকে বদলানোর কথা বলেন। গ্রামের লোকজনের সিদ্ধান্ত নেন, ওয়াক্তের নামাজ ওই ইমাম পড়াবেন আর তারাবি নামাজ অন্য ইমাম দিয়ে পড়ানো হবে। বিষয়টি নিয়ে বসার জন্য মসজিদ কমিটির সভাপতি আবুল কালাম মাস্টারকে বলা হয়।
সভাপতি মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বললে তিনি এ বিষয় নিয়ে বসতে রাজি হননি। প্রথম তারাবির আগের দিন সভাপতি বলেছিলেন, কেউ তো আমাকে মানেন না। এটা নিয়ে তারা বসতেও চান না, ওই ইমামকেই তারা রাখতে চান। তখন গ্রামের লোকজন বলেন, তারা যখন বসবে না, আমরা অন্য ইমাম দিয়ে তারাবি নামাজ পড়াবো।
পরে গ্রামের লোকজন নতুন ইমাম নিয়ে মসজিদে যান। সেখানে সভাপতির উপস্থিতিতে আলোচনার একপর্যায়ে যুবদল নেতা লিটনকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেন জামায়াত সমর্থকরা। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। পরে এ নিয়ে বৈঠকের সিদ্ধান্ত হলেও বসার স্থান নিয়ে জামায়াতের লোকজনের আপত্তি জানান।
পরে শনিবার রাতে গ্রামের লোকজনের সিদ্ধান্ত মোতাবেক অন্য একজন ইমামের ইমামতিতে মাগরিব ও এশার নামাজ পড়ানো হয়। আজ সকালে ফজরের নামাজ গিয়ে দেখতে পায় মসজিদে তালা। এলাকাবাসীর দাবি জামায়াতের লোকজনই তালা মেরেছে।
এ বিষয়ে বাগবাটি ইউনিয়ন কৃষকদলের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা বলেন, গত (৫ আগস্ট) আওয়ামী লীগ চলে যাওয়ার পর এককভাবে জামায়াতের লোকজন মসজিদ কমিটি করে। তখন আব্দুল হাই নামে জামায়াত সমর্থিত একজনকে ইমাম হিসেবে রাখা হয়।
মসজিদ কমিটির সেক্রেটারি ও জামায়াত সমর্থক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ইমাম আব্দুল হাইয়ের নামাজ পড়ানো নাকি ভালো হয় না, এজন্য তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে। আমাদের গ্রামে জামায়াতের কোনো নেতা নেই। আমি নিজেও জামায়াতের কোনো পদে নেই। তবে আমরা সমর্থক। মসজিদে কারা তালা দিয়েছে সেটা বলতে পারবো না।
এ বিষয়ে স্থানীয় বাগবাটি ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মো. ছানোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টাকে দলীয় ট্যাগ দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। এটা আসলে গ্রামের অভ্যন্তরীণ বিষয়। মসজিদে তালা দেওয়ার ঘটনা নিন্দনীয়। আমি ও বিএনপি নেতারা বসে বিষয়টি মীমাংসা করে নিব।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর থানার সহকারী উপপরিদর্শক শফিকুর রহমান বলেন, ফজরের নামাজ পড়তে দিয়ে মুসল্লিরা মসজিদে তালা দেখতে পান। পরে তারা থানায় জানালে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। আমরা উপস্থিত জনতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। কে বা কারা তালা দিয়েছে সে বিষয়ে কেউ বলতে পারে না। পরে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের লোকজন ও মসজিদ কমিটির লোকের সহযোগিতায় তালা খুলে নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করে দিয়েছি।
সময়ের আলো/আআ