শেরপুরে ৪৯ টন অবৈধ ইউরিয়া সার জব্দ

শেরপুর প্রতিনিধি

সারাদেশ

শেরপুরে সরকারের নিয়মানুযায়ী ‘বাফার’ গোডাউন বা রিজার্ভ স্টোরে না পাঠিয়ে নির্দিষ্ট হারে কমিশনের ভিত্তিতে সরাসরি ডিলারের গুদামে সার সরবরাহের অভিযোগ

2026-02-23T16:56:49+00:00
2026-02-23T16:56:49+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
শেরপুরে ৪৯ টন অবৈধ ইউরিয়া সার জব্দ
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:৫৬ পিএম 
জব্দকৃত ট্রাক। ছবি : সময়ের আলো
শেরপুরে সরকারের নিয়মানুযায়ী ‘বাফার’ গোডাউন বা রিজার্ভ স্টোরে না পাঠিয়ে নির্দিষ্ট হারে কমিশনের ভিত্তিতে সরাসরি ডিলারের গুদামে সার সরবরাহের অভিযোগ উঠেছে জেলার একমাত্র বাফার গুদাম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। 

বাফার গোডাউনে না পাঠিয়ে সরাসরি ডিলারের কাছে পৌঁছানোয় ইতিমধ্যে ৪৯ টন ইউরিয়া সার জব্দ করেছে নকলা কৃষি অফিস। বর্তমানে সার নিয়ে চলছে নানা দেন-দরবার। বাফার ইনচার্জ এ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করলেও সারসহ আটক ট্রাকচালক ও সংশ্লিষ্ট ডিলাররা দায় দিচ্ছেন ওই কর্মকর্তাদের।

জানা গেছে, জেলার ঝিনাইগাতিতে রয়েছে বাফার গোডাউন। প্রতি মৌসুমের বরাদ্দকৃত সার আশুগঞ্জ সার কারখানা, ঘোড়াশাল সার কারখানা, আমিন বাজার ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থান থেকে আমদানিকৃত সার এনে প্রথমে ওই গোডাউনে মজুত করতে হয়। সেখানে নেওয়ার পর বাফার গোডাউন কর্তৃপক্ষ তা প্রাপ্তিসাপেক্ষে বরাদ্দ অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ডিলারের কাছে সরবরাহ করেন। নিয়মানুযায়ী অনুমোদিত ডিলারগণ বাফার গোডাউনে না নিয়ে সরাসরি নিজেদের গুদামে সংরক্ষণ করতে পারেন না। এক্ষেত্রে ডিলারদের সময় বেশি লাগে ও পরিবহন ব্যয় বাড়ে। ফলে অনেকে বাফার গোডাউন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে অনৈতিক চুক্তি করে বরাদ্দকৃত সার সরাসরি নিজেদের গুদামে নিয়ে নেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বাফার গোডাউনে কর্মরত মোরাদুজ্জামান শেরপুরের বাসিন্দা হওয়ায় প্রভাব বিস্তার করেছেন এবং তার মদদেই চলে এ অনিয়ম। শুধু শেরপুর জেলা নয়, পাশের জেলা জামালপুরর আমদানিকৃত সারও এখানে মজুদ রাখা হয়। ফলে এ সুযোগটিই নেন গুদাম কর্তৃপক্ষ ও ডিলাররা। বাফার গোডাউনে সার না পাঠিয়ে অনেক সময় ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে অতিরিক্ত মূল্যে পাচার করা হয়। এতে যে মুনাফা হয়, তার ভাগ নেন বাফার গোডাউন কর্তৃপক্ষ।

গত রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকালে নকলায় দু’জন ডিলারের নামে বরাদ্দকৃত সার বাফার গোডাউনে না নিয়ে অবৈধভাবে তাদের গোডাউনে মজুত করার সময় স্থানীয় জনতা ও গণমাধ্যমকর্মীরা আটক করে প্রশাসনকে খবর দেন। পরে স্থানীয় কৃষি অফিস ও পুলিশ এসে সারগুলো জব্দ করে ট্রাকসহ থানায় নিয়ে যায়। 

আটক দুটি ট্রাকে ৯৮০টি বস্তায় প্রায় ৪৯ টন ইউরিয়া সার ছিল। আশুগঞ্জ সার কারখানা থেকে দুটি ট্রাকে (ঢাকা মেট্রো-ট-২৪-৮৩৪২ ও ঢাকা মেট্রো-ট-২৪-৪০৮৪) ৯৫০টি বস্তায় ৪৯ টন ইউরিয়া সার আনা হয়। বাফার গোডাউনের অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে নকলা উপজেলার সার ডিলার কৃষ্ণ কান্তি রায়ের মেসার্স সৃজন এন্টারপ্রাইজ ও শহিদুল ইসলামের মেসার্স খন্দকার এন্টারপ্রাইজের গোডাউনে সারগুলো মজুদের প্রস্তুতি চলছিল।


সার বহনকারী ট্রাকচালক জানান, সারগুলো ঝিনাইগাতি বাফার গোডাউনে না নিয়ে নকলা ডিলারদের গুদামে আনলোড করার জন্য তাকে বাফার গোডাউন কর্তৃপক্ষ ফোনে নির্দেশ দেন। তাই তিনি নকলায় আনলোড করা শুরু করেন। এ বিষয়ে নিয়ম-কানুন তার জানা নেই।

নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রিপন চন্দ্র গোপ জানান, ঢাকা থেকে ডিপার্টমেন্টাল একটি টিম আসার কথা রয়েছে। তারা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেবে।

বাফার গোডাউনে কর্মরত মোরাদুজ্জামান জড়িত থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এ বিষয়ে তার কর্তৃপক্ষ মতামত দেবেন। 

বাফার ইনচার্জ আদিলুজ্জামানও সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে বলেন, সার সরাসরি বাফার গোডাউনে না এনে যারা গুদামে নিতে চেয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

নকলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম জানান, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারী এবং অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সময়ের আলো/আরবিএন 


  বিষয়:   শেরপুর  সরকার  গোডাউন 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: