রমজান মাসের ইবাদতগুলো শারীরিকভাবে প্রভাব ফেলে। দিনভর উপোস থাকা ও রাতভর তারাবিহ-তাহাজ্জুদে সবাই ক্লান্ত-শ্রান্ত থাকেন। এ সময় সবাই অন্যের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। পুরুষের তুলনায় নারীদের কষ্ট একটু বেশি হয়। নারীদের ঘরোয়া কাজে কিছু বাড়তি আয়োজন থাকে, সংসারের অন্যান্য দায়িত্ব ছাড়াও ইফতারি এবং রাতের খাবারের ব্যবস্থা করতে হয়।
রোজার দীর্ঘ উপবাসের কারণে অবসাদ ও ক্লান্তিও থাকে শরীরজুড়ে। তাই এ মাসে নারীদের ঘরের কাজে পুরুষের কিছুটা সহায়তা অনেকটা স্বস্তি এনে দেয়। সহযোগিতা ও সহায়তার মাধ্যমে এ মাসের ইবাদতগুলো যথাযথভাবে পালন করা সম্ভব। রাসুল (সা.) বলেন, ‘রমজান মাস হলো সহানুভূতি ও সহমর্মিতার মাস।’ (শুয়াবুল ঈমান : ৩৩৩৬)
পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা মুমিন নর-নারীদের পরস্পর বন্ধু হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেছেন, ‘মুমিন নারী ও মুমিন পুরুষ পরস্পর বন্ধু’ (সুরা তওবা : ৭১)।
আর ভালোবাসা বা বন্ধুত্বের দাবি হলো কাজ ভাগাভাগি করে নেওয়ার মাধ্যমে সুখে-দুঃখে অংশীদার হওয়া। ফলে পারিবারিক জীবন হয় অনিন্দ্যসুন্দর ও শান্তিপূর্ণ। তা ছাড়া ঘরের নারীরাও রোজা রাখেন। এ মাসে বিভিন্ন নফল ইবাদতের প্রতি আগ্রহ তাদেরও থাকে। তাই ইফতারিতে খুব বেশি আইটেম তৈরি করার চাপ প্রয়োগ করাও অনুচিত। বরং তাদের কষ্ট লাঘব করে নফল ইবাদতে সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো মুসলমানের কষ্ট দূর করে, আল্লাহ তায়ালা কেয়ামতের দিন তার একটি কষ্ট দূর করবেন।’ (মুসলিম : ৩৮)
বছরজুড়েই মায়েরা ঘর গোছায়, রান্না করে, খাবার পরিবেশন করে, ছেলেমেয়ের পড়াশোনা, খাবার ও স্বাস্থ্যের যত্ন নেয়। মেয়েরা সবার আগে বিছানা ঝাড়ে ক্লান্ত শরীরে, ঘুমঘরে যায় সবার পরে। সাংসারিক এসব কাজে আমাদের পুরুষদের সামান্যতম অংশ নেই। কারও বেলায় ব্যতিক্রম হতেই পারে।
অথচ ইসলামের নবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর জীবনের চিত্র দেখুন। হাদিসের এসেছে, বর্ণনাকারী বলেন, আমি আয়েশা (রা.)-কে জিজ্ঞাসা করলাম রাসুল (সা.) ঘরে কী কাজ করতেন? উত্তরে আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) ঘরোয়া মানুষদের সেবায় নানা কাজে অংশ নিতেন। নামাজের সময় হলে বেরিয়ে যেতেন’ (বুখারি : ৫০৪৮)।
আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানি (রহ.) ইবনে হিব্বানের সূত্রে বলেন, আয়েশা (রা.) বলেন, ‘রাসুল (সা.) নিজের কাপড় সেলাই করতেন। জুতা মেরামত ও সাংসারিক যাবতীয় কাজে অংশ নিতেন।’ (ফাতহুল বারি : ১৩/৭০)
আমাদের সমাজের পুরুষদের আরও দায়িত্ব সচেতন হওয়া ও সহযোগিতা করা চাই। বিশেষ করে রোজার মাসে মেয়েরা সব দায়িত্ব পালনের সঙ্গে সঙ্গে নানা স্বাদের ইফতার-সেহরি তৈরি করেন। তাই ইফতার তৈরির আয়োজনে আমরা পুরুষরা অংশ নেব। কুরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমরা মঙ্গলময় কাজে প্রতিযোগিতা করো’ (সুরা বাকারা : ১৪৮)।
রোজাদারকে খাওয়ানো, খাবার তৈরি, পরিবেশন সবই ইবাদত। সওয়াব অর্জনের বসন্তকাল রোজায় পারিবারিক কাজে সহযোগিতা করেও সওয়াবের পাল্লা ভারী করতে পারি আমরা। তবে মায়েদের কাজের ব্যাপারে আল্লাহ বলেন, ‘আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিই। তোমাদের নারী ও পুরুষের মঙ্গলময় কোনো কাজ বিনিময়হীন বিফল করি না। তোমরা একে অপরের সহযোগী’ (সুরা আলে ইমরান : ১৯৫)।
রমজান সংযমের মাস, তাই এই মাসে নিজেদের বিরক্তি বা রাগ দমন করতে হবে। নারীদের প্রতি মমতা প্রদর্শন করতে হবে, গৃহিণী ও গৃহকর্মীর কাজের বোঝা হালকা করে দিতে হবে।
সময়ের আলো/কেএইচও