যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সবশেষ পারমাণবিক চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে রাশিয়ার। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের পারমাণবিক সক্ষমতার উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে রাশিয়া। এদিকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, পুতিন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু করেছেন। খবর বিবিসি ও এএফপির।
পুতিনের হুঁশিয়ারি : রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিওবার্তা পোস্ট করে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দফতর ক্রেমলিন। সেই ভিডিওবার্তায় পুতিন বলেছেন, ‘রাশিয়ার নিরাপত্তা ও কৌশলগত প্রতিরোধ নিশ্চিত করছে তার পরমাণু অস্ত্র, একই সঙ্গে বিশ্বে শক্তির ভারসাম্য রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দেশের পারমাণবিক সক্ষমতার উন্নয়ন এখন আমরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি।’
রোববার ছিল রাশিয়ার পিতৃভূমির রক্ষক (ডিফেন্ডার অব দ্য ফাদারল্যান্ড) দিবস। এই দিবস উপলক্ষেই ভিডিওবার্তাটি পোস্ট করেছিল রুশ প্রেসিডেন্টের দফতর ও বাসভবন ক্রেমলিন। ভাষণে পুতিন বলেন, তিনি এবং তার নেতৃত্বাধীন সরকার রাশিয়ার সামরিক বাহিনী ও নৌবাহিনীকে আরও শক্তিশালী করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রতিটি শাখার উন্নতির জন্য তার সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ দেখছেন জেলেনস্কি : বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি বলেন, আমি বিশ্বাস করি যে, পুতিন এরই মধ্যে এটি শুরু করে দিয়েছেন। প্রশ্ন হলো তিনি কতটা অঞ্চল দখল করতে পারবেন এবং কীভাবে তাকে থামাতে পারবেন... রাশিয়া বিশ্বের ওপর একটি ভিন্ন জীবনধারা চাপিয়ে দিতে এবং মানুষের নিজের জন্য বেছে নেওয়া জীবন পরিবর্তন করতে চান।
যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে ইউক্রেনের আরও জমি রাশিয়ার কাছে হস্তান্তরের দাবি উঠছে। এ সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, আমি এটিকে ভিন্নভাবে দেখি। আমি এটিকে কেবল ভূমি হিসেবে দেখি না। এটি আমাদের অবস্থান দুর্বল করবে। এটি মানে সেখানে বসবাসকারী আমাদের লাখ লাখ মানুষকে পরিত্যাগ করা। আমি এটিকে এভাবেই দেখি এবং আমি নিশ্চিত যে এই ‘প্রত্যাহার’ আমাদের সমাজকে বিভক্ত করবে।
কিন্তু পুতিনকে সন্তুষ্ট করলে কি এটি একটি ভালো মূল্য পরিশোধ করা উচিত নয়? তাকে কি সন্তুষ্ট করা যাবে? এর উত্তরে তিনি বলেন, এটি হয়তো তাকে কিছুক্ষণের জন্য সন্তুষ্ট করবে... তার একটু বিরতি নেওয়া দরকার।
সময়ের আলো/কেএইচও