বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ভারতের পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির হোটেল মালিকরা। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) গ্রেটার শিলিগুড়ি হোটেলিয়ার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের (জিএসএইচডব্লিউএ) এক বিজ্ঞপ্তিতে ওই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
আঞ্চলিক উত্তেজনার মাঝে ২০২৪ সালের ৯ ডিসেম্বর শিলিগুড়ির হোটেল মালিকরা বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর ওই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। পরে ভিসা কেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে তা পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞায় রূপ নেয়।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এর আগে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে অ্যাসোসিয়েশন প্রাথমিকভাবে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল; যা ভিসা কেন্দ্র বন্ধের পর ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সব ধরনের ভ্রমণকারীর জন্য হোটেলে অবস্থান সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করার পর্যায়ে পৌঁছায়।
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ায় শিলিগুড়ির হোটেলগুলোতে বাংলাদেশি পর্যটক ও দর্শনার্থীরা এখন কক্ষ বুকিং করতে পারবেন।
বিবৃতিতে জিএসএইচডব্লিউএ বলেছে, পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িজুড়ে সদস্যভুক্ত হোটেলগুলোতে বাংলাদেশি নাগরিকদের অবস্থান করা সংক্রান্ত সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধ তাৎক্ষণিকভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার গঠনের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
ওই দিন তারেক রহমান বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনের অবসান ঘটে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতি পুনর্মূল্যায়নের পর গ্রেটার শিলিগুড়ি হোটেলিয়ার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন সদস্য হোটেল মালিকদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটাভুটির আয়োজন করে। ভোটাভুটিতে সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্য পুনরায় বাংলাদেশিদের জন্য হোটেল বুকিং শুরু করার পক্ষে মত দেন।
জিএসএইচডব্লিউএ বিবৃতিতে বলেছে, দুই দেশের সরকার সীমান্ত পারাপারের বিধিনিষেধ শিথিল করায় অ্যাসোসিয়েশন উভয় দেশের সীমান্তসংক্রান্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহারে পারস্পরিক সদিচ্ছার বিষয়টি স্বীকার করছে।
অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশি অতিথিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলেও জোর দিয়ে বলেছে, ভারতের নিরাপত্তা ও মর্যাদা সবার আগে। ভবিষ্যতে কোনও অসম্মানজনক কিংবা উসকানিমূলক ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে তারা দ্বিধা করবে না বলেও সতর্ক করেছে।
সময়ের আলো/এআর