সেহরির আলো থেকে শোকের মিছিল

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সারাদেশ

চট্টগ্রামের হালিশহরে সেহরির টেবিলে তখন সাজানো ছিল ভাত-তরকারি। ভোরের নীরবতা ভেঙে হঠাৎ বিকট শব্দে মুহূর্তেই আগুনে গ্রাস হলো একটি পরিবারের

2026-02-25T01:45:40+00:00
2026-02-25T16:33:34+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬,
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
সারাদেশ
সেহরির আলো থেকে শোকের মিছিল
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:৪৫ এএম  আপডেট: ২৫.০২.২০২৬ ৪:৩৩ পিএম  (ভিজিট : ১৪১)
দুর্ঘটনাকবলিত বাসার চিত্র। ছবি : সময়ের আলো
চট্টগ্রামের হালিশহরে সেহরির টেবিলে তখন সাজানো ছিল ভাত-তরকারি। ভোরের নীরবতা ভেঙে হঠাৎ বিকট শব্দে মুহূর্তেই আগুনে গ্রাস হলো একটি পরিবারের স্বপ্ন, হাসি আর নিরাপত্তা। 

২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে তিনজনের মৃত্যু, বার্ন ইউনিটে জীবন-মৃত্যুর লড়াইয়ে আরও ছয়জন। যে ঘরে সেহরির প্রস্তুতি চলছিল, সেই ঘরই পরিণত হলো দগ্ধ শরীর আর অসহায় আর্তনাদের মর্মান্তিক স্মৃতিতে। হালিশহরের সেই বিস্ফোরণ শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়, এটি দুই পরিবারের ছিন্নভিন্ন হয়ে যাওয়ার করুণ গল্প।

চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকায় হালিমা মঞ্জিলে বিস্ফোরণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দগ্ধ ৯ জনের মধ্যে তিনজন মারা গেছে। মারাত্মকভাবে আহত ছয়জন ঢাকার বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

সর্বশেষ মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম সামির আহমেদ সুমন (৪০)। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন মারা যান। 

এর আগে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মারা যান শাওন (১৬)। গত সোমবার সন্ধ্যায় মারা যান শাওনের মা নুরজাহান আক্তার রানী (৪০)। এদিকে ঘটনা তদন্তে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) ও ফায়ার সার্ভিস দুটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটিকে দ্রুত তদন্ত রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। ঢাকায় বার্ন ইউনিটে আহতদের দেখতে গেছেন দুই মন্ত্রী ও চট্টগ্রামের স্থানীয় সংসদ সদস্য। 

সর্বশেষ মারা যাওয়া সামির আহমেদ সুমন সম্পর্কে বার্ন ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান সাংবাদিকদের বলেন, সামিরের শরীরের ৪০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল। শ্বাসনালিও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। দুপুর ১২টার দিকে সামির মারা যান। 

ঢাকার বার্ন ইনস্টিটিউটে বর্তমানে চিকিৎসাধীন মো. সাখাওয়াত হোসেন ১০০ শতাংশ, মেয়ে উম্মে আয়মান স্নিগ্ধা ৩৮ শতাংশ, আশুরা আক্তার পাখি ১০০ শতাংশ, আয়েশা ৪৫ শতাংশ ফারহান আহমেদ আনাস ৩০ শতাংশ এবং শিপন ৮০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছেন। তারা সেখানে ভর্তি আছেন। তাদের সবার অবস্থাই আশঙ্কাজনক বলে জানান চিকিৎসকরা।

এদিকে হালিমা মঞ্জিলের ফ্ল্যাটে গ্যাস বিস্ফোরণে দগ্ধ হওয়ার ঘটনা তদন্তে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষক্ষ থেকে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। 

কেজিডিসিএলের কর্মকর্তারা জানান, হালিশহরে ভবনে দুর্ঘটনায় ৯ জন দগ্ধের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। 

আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, ৯ জন দগ্ধ হওয়ার ঘটনা তদন্তে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকেও একটি কমিটি করা হয়েছে। কমিটি দ্রুত প্রতিবেদন দাখিল করবে। 

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের আগ্রাবাদ স্টেশনের অফিসার খান খলিলুর রহমান বলেন, সোমবার ভোররাতে বাসায় বিস্ফোরণের খবর পাই। এরপরই দ্রুত চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করে দেয়। দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। 

তিনি বলেন, প্রাথমিককভাবে আমরা জানতে পারি চুলা থেকে গ্যাস লিক হয়ে রান্নাঘরে জমে যায়। আগুনের সংস্পর্শ পাওয়ার পরই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে পরিবারের ছোট-বড় সবাই দগ্ধ হন। 

পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে স্থানীয়রা জানায়, বিস্ফোরণ হয়েছে সাখাওয়াত হোসেনের পরিবারে। সাখাওয়াত হালিশহর এলাকার একটি গ্যারেজের মালিক। হালিমা মঞ্জিলের তৃতীয় তলায় তিনি দুই সন্তান, স্ত্রী, গ্যারেজ কর্মচারীসহ পাঁচজন থাকেন। কয়েক দিন আগে চট্টগ্রাম শহরে চিকিৎসককে দেখাতে ছোট ভাই এসেছিল পরিবার নিয়ে। আগুনে তারাও দগ্ধ হন। 

ঘটনার সূত্রপাত নিয়ে স্থানীয়রা সাংবাদিকদের বলেন, দগ্ধ সবাই দুই ভাইয়ের পরিবারের সদস্য। সোমবার সেহরির সময় রান্নাঘরে বিকট শব্দে গ্যাস বিস্ফোরণ হয়। এ সময় চিৎকার শোনা যায়। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে দগ্ধ ৯ জনকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনে বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়।


চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ বক্সের ইনচার্জ এসআই মো. আশিক বলেন, গ্যাস লাইনে বিস্ফোরণে শিশুসহ দগ্ধ ৯ জনকে সোমবার ভোরে হাসপাতালে আনা হয়। তাদের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করেই চিকিৎসা দেওয়া শুরু হয়। তবে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য সোমবার দুপুরে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার লিটন কুমার পালিত বলেন, দগ্ধদের প্রথমে চমেকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চমেক থেকে দুপুরে ঢাকায় জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে।

বিস্ফোরণের পর দগ্ধরা একে একে বের হয়ে আসছিল

১৬ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী দিদারুল আলম নামে এক ব্যক্তি হালিমা মঞ্জিল নামে ছয় তলা ভবনটি নির্মাণ করেছিলেন। সেখানে আছে মোট ২২ ইউনিট। প্রতি ইউনিটে আছে চারটি করে ফ্ল্যাট। ভবনের নিচ তলায় আছে গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা। 

সোমবার ভোররাতে বিকট শব্দে আগুন ধরে ভবনের তৃতীয় তলায়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় আক্রান্ত ভবন ছাড়াও দ্বিতীয় থেকে পঞ্চম তলা পর্যন্ত প্রতিটি ফ্ল্যাটের দরজা-জানালা ভেঙেছে। এ ছাড়া তৃতীয় তলায় লিফটের দরজা ভেঙে গেছে। দ্বিতীয় ও চতুর্থ তলায়ও লিফটের দরজা বেশ বাঁকা হয়ে গেছে। তৃতীয় তলায় বিস্ফোরণে ক্ষতিগ্রস্ত সাখাওয়াত হোসেনের ফ্ল্যাটের পাশাপাশি আছে আরও তিন ফ্ল্যাট। আশপাশের বাসিন্দারা জানান, সাখাওয়াত হোসেনের পরিবারের সদস্যরা ঘটনার কিছু সময় আগে সেহরি করতে বসেছিলেন। তখনই বিস্ফোরণের ঘচটনা ঘটে। 

পাশের ফ্ল্যাটের জসীম উদ্দিন বলেন, সাখাওয়াতের ফ্ল্যাটের পাশে আমাদের ফ্ল্যাট। সোমবার ভোররাতে সেহরির জন্য ভোরে আমরা উঠেছিলাম। প্রায় সাড়ে ৪টার দিকে বিকট শব্দে আমাদের ঘরের মূল দরজাসহ জানালার গ্লাস ভেঙে যায়। সঙ্গে ঘরের সিলিং ফ্যান বাঁকা হয়ে যায়। দাঁড়ানো ফ্রিজ কাত হয়ে যায়। 

কোনো কোনো ফ্ল্যাটের দরজা উড়ে যেতেও দেখা যায়। সাখাওয়াতের বাসা থেকে চিৎকার শুনে দরজায় গিয়ে দেখি তারা দৌড়ে ঘর থেকে একে একে বের হচ্ছেন। বের হওয়ার সময় তাদের শরীরে আগুন দেখা যায়। প্রায় সবাই ছিলেন দগ্ধ অবস্থায়। তাদের সবাইকে সোমবার ভোরেই চমেকের বার্ন ইউনিটে নেওয়া হয়েছিল।

এদিকে ভবনটি কাছের একটি পার্লারের ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরায় কিছু ফুটেজে দেখা যায়, ভোর ৪টা ৩১ মিনিটের দিকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। এ সময় ঘর থেকে চিৎকার শোনা যাচ্ছিল। ঘরের সবাই দৌড়ে বের হয়ে যাচ্ছেন। আগুন লাগা অবস্থায় অনেকে দৌড়ে নিচে নেমে যান। এ সময় আশপাশের লোকজনও ছুটে আসে। 

লাইনের গ্যাস ছিল বাসায়

সোমবার ভোররাতে দুর্ঘটনার পরপরই অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন বাসাটিতে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করা হতো। পরে নিশ্চিত হওয়া যায় সেই ঘরে ছিল কেজিডিসিএলের লাইনের গ্যাস। এ ব্যাপারে আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অফিসের আগ্রাবাদ কার্যালয়ের স্টেশন অফিসার খান খলিলুর রহমান বলেন, বাসাটিতে সিলিন্ডারের গ্যাস ব্যবহার হয় না। লাইনের গ্যাসে চুলায় জ্বলে। আমাদের প্রাথমিক তথ্যে দেখা যায়, গ্যাস লাইন থেকে লিক হয়। রান্নাঘরেই জমে যায় গ্যাস। পরে আগুন জ্বালাতে গেলে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়। বিস্ফোরণে ঘরে থাকা গৃহকর্তা সাখাওয়াত ও তার ভাইয়ের মোট দুই পরিবারের ৯ জন দগ্ধ হন। 

দগ্ধদের ভোরেই হাসপাতালে ছোটেন স্থানীয় আত্মীয় মবকবুল হোসেন। তিনি বলেন, কুমিল্লার বরুরা থেকে সাখাওয়াতের বাসায় এসেছিলেন ছোট ভাই সুমন। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী পাখী আক্তার এবং তাদের দুই সন্তান। বেড়াতে এসে তারাও দগ্ধ হন। 
স্থানীয় বিউটি পার্লার মালিক শামীমা আক্তার বলেন, বিস্ফোরণের সময় তিনি ঘুমে ছিলেন।

বিকট শব্দে ঘুম ভাঙে। এরপর দেখতে পাই ঘরের দরজা-জানালা উড়ছে। পার্লারের জিনিসপত্রের গ্লাস ভেঙে গেছে। কাছের বাসায় দেখি বিস্ফোরণের শব্দে লোকজন ছোটাছুটি করছে। পরে দেখি দগ্ধরা একে একে বেরিয়ে আসছেন। ওই বাসার ডাইনিং টেবিলে দেখতে পাই টেবিলে সাজানো আছে ভাত-তরকারি। ধারণা করছি সেহরির খাওয়ার সময় ভয়াবহ বিস্ফোরণের এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি কতটা ভয়াবহ চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা কঠিন।

পুরো ঘর যেন ধ্বংসস্তূপ

বিস্ফোরণের ভয়াবহতায় সাখাওয়াতের ফ্ল্যাটের রান্নাঘর ভেঙে গেছে। প্রতিটি কক্ষেই ভাঙাচোরা দৃশ্য। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে রান্নাঘরের হাঁড়ি পাতিল। আগুনে অনেক মালামাল পুড়ে কয়লা হয়ে যায়। তা ছাড়া পুরো ফ্ল্যাটের আসবাবপত্র ভেঙে গেছে। বিস্ফোরণে ভেঙে যাওয়ায় ফ্ল্যাটের কোনো জিনিসপত্র অক্ষত ছিল না। প্রতিটি কক্ষেই ভেঙে পড়া দরজা-জানালার অংশ ছড়িয়ে আছে। সবই পুড়েছে। ভবনের জিনিসপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। দেখে মনে হবে শক্তিশালী কোনো বোমার বিস্ফোরণ ঘটেছে। প্রতিটি কক্ষেই পোড়া ক্ষতের চিহ্ন। ফাটল ধরেছে ঘরের দেয়ালে। ফ্লোরের টাইলস ভেঙে ছড়িয়ে পড়েছে সবখানে। 

নূর জাহানকে দাফন করা হয়েছে চট্টগ্রামে

আগুনে দগ্ধ নূর জাহান আক্তার রানীকে মঙ্গলবার দুপুরে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদের চৌমুহনী এলাকার মিস্ত্রিপাড়ার কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। বাকিদের কুমিল্লায় গ্রামের বাড়িতে দাফন করা হয়েছে। নূর জাহানের বাবার বাড়ি চৌমুহনী এলাকার মিস্ত্রিপাড়ায়। সেখানেই ছোট থেকে বড় হন নূর জাহান। মিস্ত্রিপাড়া এবং হালিশহরের এইচ ব্লকের পুরো এলাকায় দিনভর মুখে মুখে ছিল গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনাটি। কেন এত বড় দুর্ঘটনা, কারও অবহেলা ছিল কি না গ্যাস জমার কারণে নাকি অন্য কোনো কারণে দুর্ঘটনা এসব আলোচনা ছিল সবখানে। 


বার্ন ইউনিটে দুই মন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য

হালিশহরে গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ ও কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধদের দেখতে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। মঙ্গলবার সকালে তারা সেখানে যান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাসির উদ্দীন। পরে তিনি আহতদের বর্তমান অবস্থা ও চলমান চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য অবহিত করেন।

পরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, একজন রোগী ভেন্টিলেশনে আছেন। আমি তাদের দেখে এসেছি, ভর্তি রোগীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করা হবে। কুমিল্লা থেকে সকালে একই পরিবারের চারজন এসেছে। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আমরা এখানে চিকিৎসকদের বলেছি তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার জন্য।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, গ্যাস লিকেজ থেকে সারা বছরই কোথাও না কোথাও দুর্ঘটনা ঘটে। চট্টগ্রামের হালিশহরে গতকাল একটি ঘটনা ঘটেছে এবং গতকাল মঙ্গলবার সকালে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে আরও একটি ঘটনা ঘটেছে। আমরা শিল্প মন্ত্রণালয়ে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, দুর্যোগ ও ত্রাণব্যবস্থা মন্ত্রণালয় একসঙ্গে কাজ করতে চাই। যাতে মেয়াদোত্তীর্ণ গ্যাস সিলিন্ডার নিয়মের মধ্যে আনা যায়। 

হালিশহরের ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক জানিয়ে তিনি বলেন, শিশুসহ নারীরা আহত হয়েছেন। আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে যে ধরনের সাপোর্ট লাগে আমরা সেই ধরনের সাপোর্ট দেব। এদিকে হালিশহরে ভয়াবহ বিস্ফোরণে দগ্ধদের দেখতে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান। 

গতকাল মঙ্গলবার সকালে তিনি হাসপাতালে পৌঁছান। এরপর সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের খোঁজখবর নেন। হাসপাতাল পরিদর্শনকালে সংসদ সদস্য সাঈদ আল নোমান চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং দগ্ধদের বর্তমান শারীরিক অবস্থা ও চলমান চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন। এ সময় তিনি আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও কথা বলেন এবং সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে দগ্ধদের জন্য সর্বোচ্চ মানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

এ সময় সাঈদ আল নোমান বলেন, হালিশহরের এই মর্মান্তিক ঘটনায় দগ্ধদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত চিকিৎসা সহায়তাও দেওয়া হবে।

পরিদর্শন শেষে সাঈদ আল নোমান নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন। পাশাপাশি তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, হালিশহরের ঘটনায় দগ্ধ সব রোগীকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে চিকিৎসকরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

সময়ের আলো/এআর


  বিষয়:   সেহরি  শোক  মিছিল 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: