বাতাসে ভাসছে আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধ। তাড়াশ উপজেলা জুড়ে বাড়ির উঠান, সড়কের পাশ ও বাণিজ্যিক আম বাগানের সারি সারি গাছে শোভা পাচ্ছে আমের মুকুল। মুকুলে ছেয়ে গেছে গাছের ডালপালা।
তবে আম বাগান মালিকরা বলছেন, আমের ফলন অনেকটাই নির্ভর করছে আবহাওয়ার ওপর। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের বাম্পার ফলনের আশা করছেন উপজেলার বাগান মালিকরা।
দেখা গেছে, মৌসুমের শুরুতেই অনুকূল আবহাওয়ার কারণে বাগানসহ ব্যক্তি উদ্যোগে লাগানো আমগাছগুলো মুকুলে ভরে উঠেছে। বড় গাছের তুলনায় ছোট ও মাঝারি আকারের গাছে বেশি মুকুল ফুটেছে। মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে বাগান মালিকদের চোখে এখন সফলতার স্বপ্ন।
দেশি আমের পাশাপাশি আম্রোপালি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া ও ফজলি জাতের আম অন্যতম।
এছাড়াও খিরসা, মোহনা, রাজভোগ, বারী-৪ ও গোপালভোগসহ বিভিন্ন জাতের আম চাষ হচ্ছে এ উপজেলায়।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, গাছে গাছে শুধু মুকুলের সমারোহ। যেন হলুদ আর সবুজের মহামিলন। প্রতিটি ডালপালা ছেয়ে আছে সোনালি মুকুলে। চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে সুবাসিত পাগল করা ঘ্রাণ। মুকুলের ভারে নুইয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে অনেক গাছের।
মৌমাছিরা ইতোমধ্যে মধু আহরণে আসতে শুরু করেছে। শীতের জড়তা কাটিয়ে কোকিলের কুহুতানে আবারও ফিরে আসছে ঋতুরাজ বসন্ত। প্রায় ৭০ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে বলে জানা গেছে।
বাগান মালিক, কৃষি কর্মকর্তা ও আম চাষিরা আশাবাদী বড় ধরনের কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর উপজেলায় আমের বাম্পার ফলন হবে। বর্তমানে আমচাষি ও বাগান মালিকরা বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন।
তাড়াশ উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার আট ইউনিয়ন ও পৌরসভার ব্যক্তিমালিকানাধীন আমগাছ, পুকুরপাড়ের গাছ এবং বাণিজ্যিকভাবে লাগানো প্রায় ৬.১৭ হেক্টর জমিতে আম গাছ রয়েছে।
উপজেলার ধামাইচ এলাকার আমচাষি সবুজ মন্ডল জানান, প্রায় সব গাছেই মুকুল এসেছে। ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ কম থাকায় এবার কাঙ্ক্ষিত ফলনের আশা করছেন চাষিরা। উৎপাদিত আম মানসম্মত হওয়ায় চাহিদাও বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।
এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শর্মিষ্ঠা সেন গুপ্তা জানান, উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া আম চাষের জন্য বিশেষ উপযোগী। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বিগত বছরের তুলনায় বেশি উৎপাদনের আশা করা যাচ্ছে। কীটপতঙ্গের আক্রমণ কম থাকায় কীটনাশকের প্রয়োজন কম হলেও ছত্রাকজনিত রোগ প্রতিরোধে স্প্রে করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সময়ের আলো/আরবিএন