আসন্ন ঈদুল ফিতর উদযাপন উপলক্ষে ঝালকাঠির সেমাই কারখানাগুলোতে চলছে সেমাই তৈরির ধুম। কম খরচে বেশি উৎপাদনের লক্ষ্যে কাজে নিয়োগ করা হয়েছে শিশু-কিশোর শ্রমিক। কারখানা মালিকরা শিশু-কিশোর শ্রমিকদের রাখছেন আড়াল করে। মালিকদের দাবি, ওদের বাসা পাশে, এখানে আসে ঘুরতে-দেখতে।
শিশুশ্রম দেখভালের জন্য ঝালকাঠিতে সুনির্দিষ্ট কোনো দফতর নেই। তা ছাড়া জেলায় কতটি সেমাই কারখানা চালু আছে তাও জানে না কোনো দফতর। এ বিষয়ে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে জেলা নিরাপদ খাদ্য অধিদফতর কর্মকর্তা ফয়েজ জালাল উদ্দিন বলেন, আমরা এর আগে ভিজিট করে কারখানায় তৈরি সেমাইয়ে তেলাপোকা পাওয়ায় জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে অভিযান চালিয়েছিলাম। আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।
জানতে চাইলে ঝালকাঠি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক সাফিয়া সুলতানা বলেন, আমাদের অভিযান সার্বক্ষণিক চলমান। এখন (মঙ্গলবার দুপুরে) নলছিটিতে অভিযানে আছি। পর্যায়ক্রমে সব জায়গায় অভিযান চালানো হবে বলেও জানান সাফিয়া সুলতানা।
মঙ্গলবার দুপুরে শহরের কাঠপট্টি এলাকার দুটি ও পশ্চিম চাঁদকাঠি এলাকার একটি সেমাই কারাখানা সরেজমিন পরিদর্শন করে দেখা গেছে, কাঠপট্টি এলাকার মো. নান্না মিয়ার মালিকানাধীন মেসার্স মদিনা ফুড প্রোডাক্টস কারখানায় দুজন শিশু শ্রমিক সেমাই প্যাকেজিংয়ের কাজ করছে।
এ সময় কারখানার কারিগর জাফর হোসেন বলেন, মালিকের অনুমতি ছাড়া এখানে কারও প্রবেশ নিষেধ। ওরা পাশের বাসায় থাকে, এখানে দেখতে এসছে। শখের বসে প্যাকেটের কাজ করছে। শিশু শ্রমিক দুজন কিছু বলতে অস্বীকৃতি জানালেও তাদের বাড়ি মহেষখালী এবং তারা দুজনই স্কুল ছাত্র বলে জানায়। প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতেই কারিগর জাফর শিশু শ্রমিক দুজনকে ডেকে ভেতরে নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মালিক নান্না মিয়া কোনো কথা বলতে রাজি হননি। এই সেমাই কারখানার আরেকটু উত্তরে কুলসুম সেমাই কারখানা। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, চারজন কিশোর শ্রমিক কাজে নিয়োজিত রয়েছে। তারা সবাই নলছিটি উপজেলার কুলকাঠি ইউনিয়নের মুখিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং ওই এলাকার খাগড়াখানা মডেল হাই স্কুলের ছাত্র।
দশম শ্রেণির ছাত্র শ্রমিক শাকিব, এসএসসি পরীক্ষার্থী রুহুল আমীন, অষ্টম শ্রেণির ছাত্র অহেদুল হাওলাদার ও নীরব হাওলাদার। এ সময় কথা হয় কারখানা মালিক শাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, ওদের এখন স্কুল বন্ধ, তাই স্বেচ্ছায় কাজ করতে এসেছে। এখন কাজের চাপ কম, তাই কারখানায় উৎপাদন বন্ধ আছে।
পশ্চিম ঝালকাঠির মক্কা সেমাই কারখানায় কাজ করছে উজিরপুর থেকে আসা দুজন কিশোর শ্রমিক। এ বিষয়ে তারা কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি। তবে তারা পড়াশোনা করছে না বলে জানিয়েছে। কারখানার মালিক আইউব আলী জানান, ওরা দুজনের কেউই পড়াশোনা করে না। ঈদে সেমাইয়ের চাহিদা থাকায় রমজানে মৌসুমি শ্রমিক হিসেবে কাজ করে।
সময়ের আলো/আআ