বিগত প্রায় দুই বছর দেশের প্রশাসন অচলাবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময়ের মধ্যে বিভিন্ন অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন এবং দুর্নীতির ছায়া প্রশাসনে গভীর দাগ ফেলেছে। তবে সম্প্রতি নতুন সরকারের নেতৃত্বে কিছু ইতিবাচক পরিবর্তনের আভাস দেখা যাচ্ছে, যা দেশের উন্নয়ন ও গণতান্ত্রিক চেতনার জন্য আশার আলো জ্বেলে দিয়েছে। যা প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরাতে বড় ভূমিকা পালন করবে।
দৈনিক সময়ের আলোর এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়- দেড় বছর পর প্রশাসনে গতি ফিরে আসার খবরটি ইতিবাচক দেখছে দেশের মানুষ। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক, সততার ভিত্তিতে মূল্যায়নের ঘোষণা এড়ানো কারও পক্ষে সম্ভব হয়নি। এ সিদ্ধান্তের ফলে কর্মকর্তাদের মধ্যে কর্মোদ্দীপনা বাড়ছে, দায়িত্ব পালনে আগ্রহ জেগেছে।
তবে এ পরিবর্তনের মাঝেও কিছু নেতিবাচক ঘটনা চোখে পড়ছে। যেমন কয়েকজন সচিবের চুক্তি বাতিল ও ওএসডি করা হয়েছে, যা কিছু কর্মকর্তার মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে জামায়াতপন্থি ও ফ্যাসিবাদী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এ পরিস্থিতিকে কিছুটা হলেও স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার দিকে এগিয়ে দিয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার নিয়োগপ্রক্রিয়া ও পদোন্নতিতে নানা বিতর্কের মাঝে মেধাভিত্তিক ও দোষমুক্ত প্রশাসন গঠনের দাবি তীব্র হয়েছে। বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএএসএ) মতো সংগঠনগুলো তাদের মূল দাবির মধ্যে উল্লেখ করেছে, দোষমুক্ত, নিরপেক্ষ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের অগ্রাধিকার দেওয়ার। তারা বিশ্বাস করে, এই পথেই সত্যিকারের উন্নয়ন সম্ভব, যেখানে যোগ্যতা ও সততা প্রাধান্য পাবে, রাজনীতি নয়।
নতুন সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বলে আসছে- কর্মক্ষেত্রে সততা, দক্ষতা ও মেধা মূল্যায়ন একমাত্র মানদণ্ড হবে। এই সিদ্ধান্তের ফলে কিছু সময়ের জন্য বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক দেখা দিলেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের প্রশাসনিক কাজের মান উন্নত করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে, যারা রাজনৈতিক কারণে পদোন্নতি বা বদলি থেকে বঞ্চিত ছিলেন, তাদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
তবে সত্যি বলতে কি, এই পরিবর্তনের জন্য এখনও অনেক চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অস্থিরতা, দোষমুক্ত ও দোষী কর্মকর্তাদের মধ্যে বিভাজন এবং কিছু নেতিবাচক শক্তির প্রতিরোধের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। দেশের স্বার্থে দরকার একান্তভাবে যোগ্য ও নিরপেক্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী, মেধাভিত্তিক প্রশাসন গঠন, যেখানে রাজনীতি ও দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশের স্বার্থে কাজ করবে সবাই।
বর্তমান পরিস্থিতি আমাদের শিক্ষা দেয়- সততা, দক্ষতা ও মেধার মূল্যায়ন ছাড়া দেশের উন্নয়ন সম্ভব নয়। বর্তমান সরকারের এই উদ্যোগ দেশের গণতান্ত্রিক চেতনা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এক নতুন দিগন্তের সূচনা করতে পারে। আশা করি, এ পরিবর্তন শুধু কথার কথা থেকে বাস্তবের দিকে এগিয়ে যাবে, যাতে দেশের মানুষ সত্যিই উপকৃত হয়।
দেশকে এগিয়ে নিতে হলে, মেধাভিত্তিক প্রশাসনই একমাত্র পথ, যা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের শুরু থেকেই বলে আসছেন। বিগত সময়ে প্রশাসনে যে অস্থিরতা বিরাজ করছিল তা একটি কল্যাণ রাষ্ট্রের জন্য নয়। সুশাসন ফেরাতে হলে প্রশাসনে মেধাভিত্তিক মূল্যায়নই প্রধান মাপকাঠি হওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে বিগত সময় জনগণকে অনেক প্রতিকূল পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর সব পর্যায়ে স্বস্থির সুবাতাস বইতে শুরু করেছে। দেশের মানুষের চাওয়া-পাওয়া প্রাধান্য দিয়ে নতুন মেধাভিত্তিক প্রশাসন গঠিত হলে মানুষের কল্যাণই হবে- এ প্রত্যাশা রাখছি।
সময়ের আলো/আআ