ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে রতন মিয়াকে (৫০) পিটিয়ে হাত-পায়ের রগ কেটে হত্যা করেছে তার ভাতিজা ও সহযোগীরা।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) কসবা পৌরসভার আড়াইবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মো. রতন মিয়া আড়াইবাড়ি গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে।
পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রতন মিয়ার সঙ্গে তার ভাতিজাদের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার গ্রাম্য শালিস হলেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান হয়নি।
বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে রতন মিয়া জমিতে কাজ করতে গেলে তার ভাতিজা রিফাত (৩২), সিফাত (২৪) এবং তাদের খালাতো ভাই উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের সামির (১৮) লাঠিসোটা নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, তারা প্রথমে লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে এবং পরে ধারালো কাঁচি দিয়ে হাত ও পায়ের রগ কেটে দেয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থার অবনতি দেখে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল-এ পাঠান। তবে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে পথিমধ্যে তার মৃত্যু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, তারা আগে থেকেই তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলো। নিহত রতন আজ জমিতে গেলে তারা তাকে মারার ঘোষণা দিয়ে লাঠিসোটা নিয়ে জমিতে যায়। তারা তাকে মেরে রক্তাক্ত করে। বিষয়টি দূর থেকে দেখে তারা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
নিহতের বড় মেয়ে আইরিন ইসলাম হ্যাপী বলেন, আমার বাবা সকালে জমিতে কাজ করতে যান, তখন রিফাত আমার মাকে বলে রতন কই? রতনকে খবর দিয়ে আনো। ওর সঙ্গে আমার বুঝাপড়া আছে।
হ্যাপী আরও জানান, আমার বাবা বাড়িতে এলে আমরা তাকে তর্কে জড়াতে নিষেধ করি, তাই তিনিও তর্কে জড়াননি। বিকেলে পুনরায় জমিতে গেলে, তখন আমার চাচী তার ছেলেকে বলে যদি তাকে মারতেই না পারিস তাহলে তোদেরকে কেনো পেটে ধরেছি। পরে তারা জমিতে গিয়ে আমার বাবাকে লাঠিসোটা দিয়ে মেরে রক্তাক্ত করে। পরে ধারালো কাঁচি দিয়ে হাত ও পায়ের রগ কেটে ফেলে। আমরা অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
নিহতের স্ত্রী জানান, তাদের সঙ্গে আমার স্বামীর জায়গা নিয়ে অনেকদিন যাবৎ মামলা চলছে। তারা আমাদের একটি জায়গা দখল করে রেখেছে। সেটা আমাদেরকে দিচ্ছে না। এটা নিয়েই তাদের সঙ্গে দ্বন্দ্ব। এমনিতে তাদের সঙ্গে কোনো ঝগড়া নেই। আজ হঠাৎ করেই তারা আমার স্বামীর ওপর চড়াও হয়। তারা তার হাত পায়ের রগ কেটে হত্যা করে।
অত্র এলাকার সাবেক কমিশনার আবু সাঈদ জানান, তাদের মধ্যে পূর্ব থেকেই জমি নিয়ে বিরোধ ছিলো। আমরা এটার সামাজিকভাবে মীমাংসাও করে দিয়েছিলাম। আজ বিকেলে আমার বড় ভাই আমাকে ফোনে রতনকে মারার বিষয়টি জানান। জানানোর সঙ্গে সঙ্গেই রতনকে দেখতে আমি হাসপাতালে যাই। গিয়ে দেখলাম তার বাম হাত এবং পায়ের রগ কাটা। পরে তাকে কুমিল্লা নেওয়ার সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে পথিমধ্যেই সে মারা যান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কসবা থানা-র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা বলেন, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা জানতে পেরেছি। অভিযুক্তরা গ্রাম্য শালিস মেনে নিলেও পরে তা অমান্য করে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
সেময়ের আলো/জোই