রমজান ঘিরে ঘোল-মাঠা বিক্রির ধুম

এস আর শাহ্ আলম, বেড়া (পাবনা)

সারাদেশ

দুগ্ধ সমৃদ্ধ পাবনা জেলার সংস্কৃতিতে ঘোল ও মাঠার এক চিরন্তন আবেদন রয়েছে। একদিকে হজম সহায়ক, অন্যদিকে প্রশান্তি দায়ক ঠান্ডা পানীয়

2026-02-26T18:43:07+00:00
2026-02-26T18:43:07+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
রমজান ঘিরে ঘোল-মাঠা বিক্রির ধুম
এস আর শাহ্ আলম, বেড়া (পাবনা)
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৪৩ পিএম 
বাজারে বসে ঘোল ও মাঠা বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। ছবি : সময়ের আলো
দুগ্ধ সমৃদ্ধ পাবনা জেলার সংস্কৃতিতে ঘোল ও মাঠার এক চিরন্তন আবেদন রয়েছে। একদিকে হজম সহায়ক, অন্যদিকে প্রশান্তি দায়ক ঠান্ডা পানীয় হিসেবে এই জনপদের মানুষের জনপ্রিয় খাবার ঘোল- মাঠা। পাবনার বেড়া উপজেলার মাঠার চাহিদা সারা বছরই তুলনামূলকভাবে থাকে। তবে রমজান মাসে চাহিদা দ্বিগুণ বেড়ে যায়। 

ব্যবসায়ীরা বলছেন, গতবারের চেয়ে এ বছর বিক্রি কম, তাই স্বল্প লাভে ঘোল-মাঠা বিক্রি করছেন তারা। এই জনপদে ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ ঘোল- মাঠা, জেলা ছাড়াও মাঠার স্বাদ নিচ্ছেন দেশের নানা জায়গার মানুষ। এই পানীয় বিক্রি করে অনেক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জীবন-জীবিকা চালিয়ে যাচ্ছেন। 

সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে গিয়ে দেখা যায়, পাতিল এবং বালতি ভরে মাঠা বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। রমজান মাসে শরবতের পরিবর্তে মাঠাকে বিক্রিকে প্রাধান্য দিয়ে আসছেন ব্যবসায়ীরা। সবার ধারণা দেশের অন্যান্য এলাকার চেয়ে বেড়ার মাঠা স্বাদে ও গন্ধে অতুলনীয়। 

প্রতিদিন ভোরে সংগ্রহ করা দুধ প্রথমে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা ধরে ফোটানো হয়। এরপর নির্দিষ্ট সময়ে জাল দেওয়ার পর সারারাত রেখে দেওয়া হয়। সকালে জমে থাকা সেই দুধের সঙ্গে চিনি ও অন্যান্য উপকরণ মিশিয়ে তৈরি করা হয় বেড়ার ঐতিহ্যবাহী ঘোল- মাঠা। 

উপজেলার হাটুরিয়া, নাকালিয়া, জগন্নাথপুর, পেচাকোলা, মোহনগঞ্জ, মালপাড়া, ডাকবাংলা এবং উপজেলার প্রাণকেন্দ্র সিঅ্যান্ডবি বাসস্ট্যান্ডসহ বেড়া পৌর এলাকায় রয়েছে অসংখ্য মাঠা তৈরির কারিগর। বুধবার কথা হয় ঐতিহ্যবাহী নাকালিয়া বাজারের মাঠা তৈরি কারিগর বাসুদেব ঘোষের সাথে। 

তিনি বলেন, রমজান মাসে তাদের ঘোল ও মাঠার চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। তবে এ বছর আবহাওয়া একটু ঠান্ডা থাকায় গতবারের চেয়ে বিক্রি একটু কম হচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা মৌসুমি ব্যবসায়ীরা তার থেকে পাইকারি দরে ঘোল ও মাঠা কিনে নিয়ে যায়। 

আরেক মাঠা ব্যবসায়ী বিশ্বনাথ ঘোষ বলেন, রমজান মাসে মাঠার চাহিদা বাড়লেও দাম না বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এ বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ীরা। বর্তমান ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে প্রতি কেজি মাঠা খুচরা বিক্রি করছেন ওই এলাকার ব্যবসায়ীরা। রমজানের পবিত্রতা রক্ষার জন্য উৎপাদিত পণ্য স্বল্প লাভে বিক্রি করছেন বলে জানান তারা। 


পেচাকোলা বাজারের ঘোল-মাঠা কারিগর উত্তম ঘোষ জানান, চলতি রমজানে প্রতিদিন পেচাকোলা বাজার, মোহনগঞ্জ বাজার, হাটুরিয়া, চারমাথা এলাকাসহ চরাঞ্চলের বিভিন্ন গ্রামে শতাধিক মণ ঘোল ও মাঠা বিক্রি হয়। তবে দুধের দাম বেশি হওয়ায় মাঠার উৎপাদন খরচ বেড়েছে। ফলে লাভের পরিমাণ অনেকটাই কম। তবু রমজান মাস উপলক্ষে কম লাভেই মাঠা বিক্রি করছি।

বেড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তাহমিনা সুলতানা নীলা সময়ের আলোকে জানান, ঘোল ও মাঠা অত্যন্ত পুষ্টিগুণ সম্পন্ন একটি পানীয় খাবার। এতে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন, উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে, যা শরীরের জন্য ভালো। 

তিনি আরও বলেন, হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে অত্যন্ত কার্যকর ঘোল ও মাঠা। এছাড়া ক্লান্তি দূর করে প্রশান্তি আনে, মেজাজ ফুরফুরে রাখে এই খাবার। এ কারণে যুগ যুগ ধরে মানুষ এই তরল পানীয় খাদ্য পান করে আসছেন।

সময়ের আলো/আআ


  বিষয়:   রমজান  ঘিরে  ঘোল  মাঠা  বিক্রি  ধুম 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: