নাটোরের সিংড়ায় আব্দুল কাহার ওরফে আতিক নামে এক কলেজ শিক্ষার্থীকে হত্যা মামলায় দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও ৩ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নাটোরের অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত-৪ এর বিচারক দেলোয়ার হোসেন আসামিদের উপস্থিতিতে রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সিংড়ার বড়গ্রাম দক্ষিণপাড়া মহল্লার মৃত আব্দুল মজিদ মণ্ডলের ছেলে মাসুদ রানা ও একই এলাকার মৃত ফজলার রহমানের ছেলে মিজানুর রহমান মিন্টু।
নাটোর জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট রুহুল আমীন তালুকদার টগর জানান, নিহত আব্দুল কাহার ওরফে আতিক সিংড়ার বড়গ্রাম দক্ষিনপাড়া মহল্লার আব্দুর রশীদের ছেলে এবং সিংড়ার দমদমা স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২০১৪ সালে এইচএসসি কৃতকার্য শিক্ষার্থী ছিলেন।
একই বছর ২৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় আব্দুল কাহার ওরফে আতিককে তার পরিচিত কয়েকজন ব্যক্তি বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কিন্তু কোথাও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরদিন সকালে বাড়ির অদূরে একটি পুকুরপাড়ে আব্দুল কাহারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতের বাবা আব্দুর রশীদ বাদি হয়ে ৪ জনের নামসহ অজ্ঞাত আরও ৪-৫ জনকে অভিযুক্ত করে সিংড়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে মিজানুর রহমান মিন্টু ও মাসুদ রানাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। জিজ্ঞাসাবাদে তারা আব্দুল কাহারকে হত্যার কথা স্বীকার করলে তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবেদনসহ আদালতে পাঠানো হয়।
দীর্ঘ প্রায় এক যুগ চলা মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ গ্রহণের পর আদালতের বিচারক অভিযুক্তদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ বছর কারাদণ্ডের আদেশ দেন।
মামলায় রায়ে বাদীপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
সময়ের আলো/আরবিএন