বর্তমানে বাজারে ১২ লিটার এলপি গ্যাসের দাম ১৭০০ থেকে ১৮০০ টাকার মধ্যে পাওয়া গেলেও কিশোরগঞ্জে একই গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হয়েছে মাত্র ১৪০০ টাকায়।পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে জ্বালানি সংকটজনিত ভোগান্তি কমাতে কিশোরগঞ্জে এক দিনের জন্য ন্যায্যমূল্যে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির বিশেষ ক্যাম্পেইন আয়োজন করা হয়।
রান্নার গ্যাসের সংকট ও বাড়তি দামের প্রেক্ষাপটে জনবান্ধব এ উদ্যোগ নেয় মেঘনা ফ্রেশ এলপি গ্যাসের কিশোরগঞ্জ পরিবেশক স্পার্ক ইন্টারন্যাশনাল।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে স্পার্ক ইন্টারন্যাশনাল ফ্রেশ এলপি গ্যাসের উদ্যোগে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সামনে, বড়পুল, গাইটাল, ডিসি অফিস, পুরানথানা ও বৌলাই বাজার এলাকায় ন্যায্যমূল্যে এলপি গ্যাস সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
এ সময় ক্রেতাদের মাঝে নির্ধারিত দামে ফ্রেশ এলপি গ্যাস সরবরাহ করা হয়।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গত ২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাজারের যেকোনো দোকানে একটি এলপি গ্যাস সিলিন্ডার রিফিল করতে সাধারণত ১৬০০ থেকে ১৮০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। সেখানে গ্যাসসংকটপূর্ণ এলাকায় এক দিনের জন্য সীমিত লাভে প্রতি সিলিন্ডার ১৪০০ টাকায় বিক্রি করা হয়। খোলা বাজারেও চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত গ্যাস ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করা হয়েছে।
নির্ধারিত দামে গ্যাস পেয়ে সাধারণ ভোক্তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় সংকটের কারণে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ফ্রেশ গ্যাস কোম্পানির এই উদ্যোগ বাজারে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টরা।
ক্যাম্পেইনে অংশ নেওয়া একাধিক ভোক্তা জানান, রমজানের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ন্যায্যমূল্যে রান্নার গ্যাস পাওয়া তাদের জন্য বড় স্বস্তির বিষয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহলের মতে, এ ধরনের উদ্যোগ নিয়মিত ও বিস্তৃত আকারে নেওয়া হলে সংকট, অতিরিক্ত মূল্য আদায় এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য অনেকাংশে কমে আসবে।
এ বিষয়ে স্পার্ক ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের ডিভিশনাল ম্যানেজার মো. হোসাইন মারুফ বলেন, পবিত্র রমজানে সাধারণ মানুষ যেন রান্নার গ্যাসের সংকটে ভোগান্তিতে না পড়েন, সেই চিন্তা থেকেই ন্যায্যমূল্যে এলপি গ্যাস সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভোক্তাদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভবিষ্যতেও পরিবেশকগণ ন্যায্যমূল্যে গ্যাস সরবরাহ করবেন বলে তিনি আশা করেন।
রমজান উপলক্ষে আয়োজিত এই বিশেষ ক্যাম্পেইন ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
সময়ের আলো/আরবিএন