লক্ষ্মীপুরের মেঘনা উপকূলীয় দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের জন্য আশার আলো হয়ে এসেছে একটি ভাসমান হাসপাতাল। দীর্ঘদিন ধরে উন্নত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত তৃণমূল জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে রামগতি উপজেলার মেঘনা নদীতে আনুষ্ঠানিকভাবে এই হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের যোগেশ মাঝির খেয়াঘাটসংলগ্ন মেঘনার তীরে অবস্থান করছে ভ্রাম্যমাণ হাসপাতালটি।
গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
জানা গেছে, আগামী তিন মাস প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত এখানে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে।
সৌদি আরবের অর্থায়নে এবং দেশটির প্রয়াত বাদশা আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজের নামে পরিচালিত এই হাসপাতালটি যৌথভাবে পরিচালনা করছে বাংলাদেশ সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ফ্রেন্ডশিপ’।
নদী ও চরাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের জন্য এখানে আধুনিক চিকিৎসার সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সাধারণ ও প্রাথমিক চিকিৎসা, রোগ নির্ণয়ের ডায়াগনস্টিক সুবিধা, প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার (সার্জারি) এবং ওষুধ বিতরণ করা হচ্ছে।
ফ্রেন্ডশিপ সূত্র জানিয়েছে, ৭ জন অভিজ্ঞ চিকিৎসকসহ মোট ৩২ সদস্যের একটি দক্ষ টিম হাসপাতালটির সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। বর্তমানে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ জনেরও বেশি রোগী এখান থেকে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন।
দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে রোগীর সংখ্যা আরও বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
বছরের পর বছর উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত চরবাসী বাড়ির পাশে এমন সেবা পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, চরাঞ্চল থেকে মূল শহরের হাসপাতালে যেতে যেমন বাড়তি খরচ হয়, তেমনি যাতায়াতও কষ্টসাধ্য। এখন হাতের নাগালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও বিনামূল্যে ওষুধ পাওয়ায় তারা উপকৃত হচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টদের মতে, উপকূলীয় জনপদে স্বাস্থ্যসেবার দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে এই ভাসমান হাসপাতাল একটি মাইলফলক উদ্যোগ হিসেবে কাজ করবে।
সময়ের আলো/আরবিএন