জলবায়ু সংকট শুধু তাপমাত্রা বাড়াচ্ছে না, বদলে দিচ্ছে প্রকৃতির মৌসুমি ছন্দও। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, উষ্ণমণ্ডলীয় অঞ্চলের বহু গাছ এখন আগের তুলনায় কয়েক মাস আগে বা পরে ফুল দিচ্ছে।
২০০ বছরের তথ্য ও প্রায় ৮ হাজার উদ্ভিদের নমুনা বিশ্লেষণ করে গবেষকরা বলছেন, এই পরিবর্তন পুরো ইকোসিস্টেমে ‘ধাপে ধাপে প্রভাব’ ফেলতে পারে। কারণ ফুল ফোটার সময় বদলে গেলে ফলভোজী প্রাণী, বীজ ছড়ানো প্রাণী ও পরাগবাহীদের সঙ্গে প্রাকৃতিক সামঞ্জস্য নষ্ট হয়; যা শেষ পর্যন্ত জীববৈচিত্র্যের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে। ছিন্নভিন্ন হয়ে যেতে পারে প্রকৃতির সূক্ষ্ম জাল।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে প্লোস ওয়ান-জি জার্নালে।
গবেষকরা ১৭৯৪ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সংগ্রহ করা জাদুঘরের শুকনো উদ্ভিদ নমুনা বিশ্লেষণ করেন। ব্রাজিল, ইকুয়েডর, ঘানা ও থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের ৩৩টি প্রজাতির ফুলের সময়চক্র পর্যালোচনা করা হয়।
ফলাফল বলছে, গড়ে প্রতি দশকে ফুল ফোটার সময় প্রায় দুই দিন করে বদলেছে। কোথাও ফুল আগেভাগে ফুটছে, কোথাও আবার দেরিতে। উদাহরণ হিসেবে ব্রাজিলের অ্যামারান্থ গাছ ১৯৫০-এর দশকের তুলনায় এখন প্রায় ৮০ দিন পরে ফুল দিচ্ছে। আবার ঘানার একটি ঝোপজাতীয় উদ্ভিদ পঞ্চশের দশক থেকে নব্বইয়ের দশকের মধ্যে প্রায় ১৭ দিন আগে ফুল দেওয়া শুরু করেছে।
আগে ধারণা ছিল, উষ্ণমণ্ডলে বছরের মধ্যে তাপমাত্রার ওঠানামা কম হওয়ায় সেখানে ফুল ফোটার সময় খুব বেশি বদলাবে না। কিন্তু এই গবেষণা সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করেছে। প্রধান গবেষক স্কাইলার গ্রেভস বলেন, ‘পৃথিবীর কোনো অঞ্চলই জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের বাইরে নয়।’ উষ্ণমণ্ডল পৃথিবীর প্রায়
এক-তৃতীয়াংশ এলাকাজুড়ে বিস্তৃত এবং এখানেই সবচেয়ে বেশি জীববৈচিত্র্য রয়েছে। প্রতি বছর প্রায় ১৮০টি নতুন উদ্ভিদ প্রজাতি এখানেই আবিষ্কৃত হয়। ফলে এই অঞ্চলের পরিবর্তন বৈশ্বিক প্রভাব ফেলতে পারে।
ফুল ফোটার সময় যদি ফলভোজী বা বীজ ছড়ানো প্রাণীর উপস্থিতির সঙ্গে না মেলে, তবে সমস্যা তৈরি হয়। যেমন, কোনো ফুল যদি পরাগায়নের জন্য পরিযায়ী পাখির ওপর নির্ভরশীল হয়, আর সেই পাখি নির্দিষ্ট কয়েক দিনই উপস্থিত থাকে; তা হলে সময়ের অমিল হলে পরাগায়ন ব্যাহত হবে। এতে ফুলও ক্ষতিগ্রস্ত হবে, পাখিও খাদ্য পাবে না।
গবেষকরা বলছেন, ইকোসিস্টেম একটি সূক্ষ্ম জালের মতো। এর একটি অংশের ছন্দ নষ্ট হলে পুরো ব্যবস্থাই ভেঙে পড়তে পারে। বিশেষ করে বহু প্রাণী, যাদের মধ্যে প্রাইমেটও রয়েছে; এই উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল এবং তারা আগেই ঝুঁকিতে আছে।
এফআর