ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিশ্বেশ্বরী পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ জন শিক্ষার্থী ৪৮তম (বিশেষ) বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে স্বাস্থ্য ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে নিয়োগ পেয়েছেন। মানবসেবার শপথ নিয়ে তারা এরই মধ্যে প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে পথচলা শুরু করেছেন।
একই স্কুল থেকে একসঙ্গে ছয়জনের এই বিরল সাফল্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের মাঝে বইছে আনন্দের বন্যা।
বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে যেন উৎসবের আবহ। সবার মুখে গর্ব আর প্রেরণার গল্প। এমন সাফল্যের বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক একেএম মোস্তফা কামাল উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, আমাদের বিদ্যালয়ের ছয়জন শিক্ষার্থী একসঙ্গে স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দেওয়ায় আমি গর্বিত। তারা কর্মজীবনে আরও সফল হোক।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিয়োগপ্রাপ্ত ছয়জনের মধ্যে মধ্যে তিনজনই এসএসসি ২০১৪ ব্যাচের। ডা. আনিসুর রহমান রিয়াদ, ডা. নিশাদ ফারহানা ও ডা. জয়িতা দাস। এ ছাড়া ২০১৩ ব্যাচের ডা. অনন্যা সরকার, ২০১২ ব্যাচের ডা. নির্জনা রাউত তন্বী এবং ২০০৯ ব্যাচের ডা. আনোয়ার রহমান ইমনও একই সাফল্যের অংশীদার।
ডা. আনিসুর রহমান রিয়াদ বর্তমানে মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। গৌরীপুরের পুম্বাইল গ্রামের সন্তান তিনি।
আলাপকালে রিয়াদ জানান, স্কুলজীবন শেষ হওয়ার আগেই বাবার আকস্মিক মৃত্যু তার জীবনে বড় ধাক্কা হয়ে আসে।
তিনি বলেন, স্কুলের পাঠ চুকানোর আগেই বাবাকে হারিয়েছিলাম। সেই থেকে প্রতিটি দিন ছিল বাবার স্বপ্নপূরণের সংগ্রাম। আজ বিসিএস ক্যাডার হওয়া সেই দীর্ঘ ত্যাগ ও পরিশ্রমেরই ফসল। অনুজদের উদ্দেশে পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, পড়াশোনার কোনো বিকল্প নেই।
ডা. অনন্যা সরকার বর্তমানে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সহকারী সার্জন হিসেবে কর্মরত। তিনি উপজেলার মাকরঝাপ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বন্দনা রানী পালের কন্যা।
ডা. অনন্যা বলেন, বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগদানের মাধ্যমে সরাসরি প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন পূরণ হলো। নিজ উপজেলার মানুষের সেবা করতে পারাটা এক অন্যরকম তৃপ্তি।
নিয়োগপ্রাপ্ত অন্যদের মধ্যে ডা. নিশাদ ফারহানা কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, ডা. জয়িতা দাস ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (ডেন্টাল), ডা. নির্জনা রাউত তন্বী হালুয়াঘাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (ডেন্টাল) এবং ডা. আনোয়ার রহমান ইমন কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দায়িত্ব পালন করছেন।
তাদের এই অর্জনে পরিবারের সদস্য, সহপাঠী ও শুভানুধ্যায়ীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনন্দন জানাচ্ছেন।
এফআর