পবিত্র মাহে রমজানে প্রত্যেক জ্ঞানসম্পন্ন প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষের ওপর রমজানের রোজা রাখা ফরজ। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! তোমাদের জন্য রোজা ফরজ করা হলো, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের প্রতিও; যাতে করে তোমরা মুত্তাকি হতে পারো।’ রোজাদারের পুরস্কার মহান আল্লাহ নিজ হাতে দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। হাদিসে কুদসিতে তিনি বলেন, ‘রোজা আমার জন্যই। এর পুরস্কার আমি নিজেই দেব’ (বুখারি : ১৮৯৪)। এ ছাড়া রোজাদারের অনেক ফজিলতের কথা বর্ণিত হয়েছে বিভিন্ন হাদিসে।
পক্ষান্তরে যারা অকারণে রোজা ভাঙবেন, তাদের জন্য রয়েছে ভয়াবহ শাস্তি। আবু উমামা (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। স্বপ্নে দেখলাম আমার কাছে দুই ব্যক্তি আগমন করল। তারা আমার বাহুদ্বয় ধরে আমাকে এক দুর্গম পাহাড়ে নিয়ে এলো। তারপর আমাকে বলল, আপনি পাহাড়ের ওপর উঠুন। আমি বললাম, আমি তো উঠতে পারব না। তারা বলল, আমরা আপনাকে সহজ করে দেব। আমি ওপরে উঠলাম। যখন পাহাড়ের সমতলে পৌঁছলাম, হঠাৎ ভয়ংকর আওয়াজ শুনতে পেলাম। আমি বললাম, এসব কীসের আওয়াজ? তারা বললেন, এটা জাহান্নামিদের আর্তনাদ। তারপর তারা আমাকে নিয়ে এগিয়ে চলল। হঠাৎ কিছু লোক দেখতে পেলাম, যাদেরকে তাদের পায়ের মাংসপেশি দ্বারা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে, তাদের মুখের দুই প্রান্ত ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে এবং তা থেকে রক্ত ঝরছে। আমি বললাম, এরা কারা? তারা বললেন, যারা ইফতারের সময় হওয়ার আগেই রোজা ভেঙে ফেলে।’ (ইবনে খুজাইমা : ১৯৮৬; ইবনে হিববান : ৭৪৪৮)
আরও পড়ুন
কেউ যদি কোনো ওজর ছাড়া রোজা ভাঙে বা না রাখে তা হলে তার পরিণতি সম্পর্কে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, এতে আল্লাহ তায়ালা ক্রোধান্নিত হন। শাস্তি কী হবে, এটা বলা হয়নি। ক্রোধান্নিত হয়ে আল্লাহ তায়ালা যা ইচ্ছা শাস্তি দিতে পারেন। কারও ওপর আল্লাহ তায়ালা ক্রোধান্নিত, এর চেয়ে বড় শাস্তি আর কী হতে পারে! আল্লাহর রাসুল (সা.) এও বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি শরিয়তসম্মত কোনো কারণ ছাড়া এ মাসে (রমজান) একটি রোজা ছেড়ে দেবে, সে যদি এর বদলে সারা জীবনও সিয়াম পালন করে তবু তার পাপের খেসারত হবে না।’ (বুখারি)
রোজা এমন জিনিস নয় যে, তা একজন সুস্থ ব্যক্তির পক্ষে রাখা সম্ভব নয়। আল্লাহ তায়ালা নিজেই বলেছেন, ‘আল্লাহ কাউকে তার সাধ্যের বাইরে কোনো কাজ চাপিয়ে দেন না। সে যা ভালো কাজ করেছে তার ফল পাবে এবং যা খারাপ করেছে তা তার বিরুদ্ধে যাবে।’ (সুরা বাকারা : ২৮৬)
সমাজে এমন অনেক মেহনতি মানুষ আছেন যারা রিকশা চালান, ক্ষেতে বদলি দেন, কায়িক শ্রম দেন, তারাও তো রোজা রাখছেন। মূলত বিষয়টা হলো ইচ্ছার ওপর নির্ভর। যে যেভাবে ইচ্ছা করে, আল্লাহ তায়ালা তাকে সেভাবে রাখেন। অন্যান্য দিনে দু-তিনবেলা না খেয়ে থাকাটা কষ্টকর হলেও রোজা রাখাতে আল্লাহ তায়ালা অনেক সহজ করে দিয়েছেন। ফিনল্যান্ডের মুসলমানরা ২৩ ঘণ্টা রোজা রাখছেন, তারা একটি দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২৩ ঘণ্টাই যদি না খেয়ে থাকতে পারেন, তা হলে অন্যান্য দেশের মানুষ, যেখানে বারো-চৌদ্দ ঘণ্টা দিন থাকে, তারা ফিনল্যান্ডের অধিবাসীদের তুলনায় এ সামান্য কয়েক ঘণ্টার রোজা রাখতে পারবে না কেন! তাই তো রোজা রাখার জন্য আগে থেকেই মানসিক প্রস্তুতি রাখা চাই, যেন সহজেই আমি রোজা রাখতে পারি। তা হলে আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে সহযোগিতা করবেন।
এএডি/