নারী-পুরুষের আলাদা আলাদা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ জেলা স্থানীয় সার্কিট হাউজে জেলায় সরকারি কর্মকর্তাবৃন্দ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মত বিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন পুতুল বলেন, আমি শুধু লালপুর-বাগাতিপাড়ার নয়, পুরো নাটোরের উন্নয়নে কাজ করবো। আমার বাবা সাবেক যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী ফজলুর রহমান পটল নাটোরের উন্নয়নে যে সব কাজে হাত দিয়েছিলেন, আমি সেখান থেকেই আবার কাজ শুরু করবো। নাটোরের চারটি আসনের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে আমি বাবার মতই নিজের জীবন উৎসর্গ করবো। আপনারা আমার পাশে থাকেন। আমি নাটোরকে একটি উন্নত সমৃদ্ধ জেলা হিসাবে গড়তে কাজ করব।
পুতুল বলেন, চাঁদাবাজ, মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত নাটোর গড়তে যা প্রয়োজন তাই করা হবে। সেজন্য আপনাদের সহযোগিতা কামনা করছি। আমরা যারা জনপ্রতিনিধি হিসেবে আছি, আমাদের একার পক্ষে সব ধরনের উন্নয়ন করা সম্ভব না। আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া এ উন্নয়ন সম্ভব না। সেজন্য আপনার সব ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমি একজন সরকারের কর্মচারী হিসেবে, জনগণের সেবক হিসেবে জীবনের বাকী সময় কাজ করে যেতে চাই।
তিনি আরও বলেন, নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা হবে। এছাড়া উত্তরাঞ্চলে কৃষিপ্রধান অঞ্চলগুলোতে ভূমিকা রাখতে চাই। কৃষকদের উন্নয়ন সাধন করে পুরো বাংলাদেশে কৃষি সমৃদ্ধি বাস্তবায়ন করতে চাই। এসব কাজ একদিনে করা সম্ভব নয়, সেজন্য সময়ের প্রয়োজন।
নাটোরের জেলা প্রশাসক মিস আসমা শাহীনের সভাপতিত্বে এ মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, নাটোরের পুলিশ সুপার আব্দুল ওয়াহাব, জেলার নির্বাচন কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, সিভিল সার্জন মুক্তাদির আরিফিন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ওমর আলি, শিক্ষা রুস্তম আলি হেলালী, বিএডিসি নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন, নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১ জেনারেল ম্যানেজার ফখরুল আলমসহ সরকারি বিভিন্ন কর্মকর্তাবৃন্দ স্ব-স্ব দপ্তরের মতামত ও সমস্যা তুলে ধরেন।
এর আগে প্রতিমন্ত্রীর নাটোরে আগমনকে ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। বেলা ১১টায় তিনি নাটোর সার্কিট হাউসে পৌঁছালে জেলা পুলিশের একটি দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে দুপুর ১টায় নিজ নির্বাচনি এলাকা লালপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
দুপুর ২টায় লালপুরের গৌরীপুর হাইস্কুল মাঠে তার সম্মানে আয়োজিত গণসংবর্ধনায় অংশ নেয়। স্থানীয়রা মনে করছেন, এ সফর জেলার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।