যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল-এর যৌথ হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করার পর দেশজুড়ে এখন সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন—এই সংকটময় সময়ে ইরানের নেতৃত্ব কার হাতে যাবে?
ইরান সরকার জানিয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়া তদারকির জন্য তিন সদস্যের একটি অন্তর্বর্তী পরিষদ দায়িত্ব নেবে। এই পরিষদে থাকবেন দেশের প্রেসিডেন্ট, প্রধান বিচারপতি এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের একজন আইন বিশেষজ্ঞ।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি (আইআরএনএ) জানায়, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, প্রধান বিচারপতি গোলাম হোসেন মোহসেনি এজেই এবং গার্ডিয়ান কাউন্সিলের মনোনীত একজন আইন বিশেষজ্ঞ মিলে গঠিত এই পরিষদ সাময়িকভাবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ নেতৃত্বের দায়িত্ব পালন করবে। তবে গার্ডিয়ান কাউন্সিলের পক্ষ থেকে ঠিক কে এই পরিষদে থাকবেন, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। উল্লেখ্য, গার্ডিয়ান কাউন্সিল ১২ সদস্যের একটি প্রভাবশালী সংস্থা, যা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে আইন ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
যদিও খামেনির মৃত্যুর খবর রোববার প্রকাশ্যে আসে, ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল জানায়, শনিবার ভোরে রাজধানী তেহরান-এ তার কার্যালয়কে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা গেছে, তার বাসভবনের একটি বড় অংশ ধসে পড়েছে এবং চারপাশে বিস্ফোরণের চিহ্ন স্পষ্ট।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, হামলার সময় খামেনি তার দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় নিজ কার্যালয়ে ছিলেন।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানে সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার শাসনব্যবস্থা চালু হয়। সে সময় এক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে রেজা শাহ পাহলভী-এর রাজতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং দেশে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই থেকে এখন পর্যন্ত ইরান দুজন সুপ্রিম লিডার পেয়েছে, যাদের পদবী ‘আয়াতুল্লাহ’—শিয়া মুসলিমদের কাছে যা একজন জ্যেষ্ঠ ধর্মীয় নেতার মর্যাদা নির্দেশ করে।
সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি শুধু রাষ্ট্রপ্রধানই নন, তিনি দেশের সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার-ইন-চিফ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। তার মৃত্যুতে ইরানের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় কাঠামোয় একটি বড় পরিবর্তনের সূচনা হতে যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
/ইউএমএইচ