কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার বাংগড্ডা ইউনিয়নের দাড়াচৌ গ্রামে ইতিহাসের নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে প্রায় ৫০০ বছরের পুরনো বাল্লেগ শাহ্ মসজিদ। মুঘল শাসনামলে নির্মিত তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এই প্রাচীন স্থাপনাটি সংস্কারের অভাবে আজ ধ্বংসের পথে। ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় বর্তমানে মসজিদটিতে নামাজ আদায় বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় ইতিহাস সূত্রে জানা যায়, সুদূর ইরাকের বাগদাদ থেকে ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে আগত ওলি-আউলিয়াদের অন্যতম ছিলেন হযরত শাহজালাল (রা.) এর সফরসঙ্গী ফকির বাল্লেগ শাহ্ খন্দকার।
ধারণা করা হয়, পঞ্চদশ শতাব্দীতে তিনি দাড়াচৌ গ্রামে অবস্থান করে চুন-সুরকি ও ইটের কারুকাজে নির্মাণ করেন তিন গম্বুজ বিশিষ্ট এই মসজিদ। মসজিদের দেয়ালের একপাশে ‘পঞ্চদশ’ শতাব্দীতে এর নির্মাণের উল্লেখ রয়েছে বলে জানা যায়।
নির্মাণের সময় মসজিদের আশপাশে কোনো বসতি ছিল না। পাহাড়, নদী ও জঙ্গলবেষ্টিত নির্জন এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা এই মসজিদকে কেন্দ্র করেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে জনবসতি। ইতিহাস, স্থাপত্যশৈলী ও ধর্মীয় গুরুত্বের কারণে প্রতিনিয়ত দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এখানে আসেন। একসময় প্রাচীন এই মসজিদে জুমার নামাজে মুসুল্লিদের ঢল নামত।
তবে বর্তমানে ভবনটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ইবাদত বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, শত শত বছর আগে এই মসজিদ নির্মাণ করা হয় বলে তারা পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে শুনেছেন। ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় পাশেই নতুন একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। কারুকাজ খচিত ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাটি দ্রুত সংস্কার ও সংরক্ষণের দাবি জানান তারা।
মসজিদ কমিটির সভাপতি শামীম খন্দকার জানান, প্রায় ৫০০ বছর আগে বাল্লেগ শাহ্ ফকির আল বাগদাদি ধর্ম প্রচারের জন্য এখানে এসে মসজিদটি নির্মাণ করেন। তিনি এটিকে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে সংরক্ষণের দাবি জানান।
এ বিষয়ে নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিজা আক্তার বিথী বলেন, মসজিদটি পরিদর্শন করে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এই মূল্যবান নিদর্শন এখন সংরক্ষণের অপেক্ষায়। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে হারিয়ে যেতে পারে পাঁচ শতাব্দীর স্মৃতি এমনটাই আশঙ্কা স্থানীয়দের।
সময়ের আলো/আরবিএন