ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে অভয়াশ্রম এলাকাগুলোতে ২ মাসের জন্য সব ধরনের মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মৎস্য বিভাগ।
রোববার (১ মার্চ) থেকে বরিশাল, পটুয়াখালী, ভোলা ও চাঁদপুর জেলার ৫টি অভয়াশ্রম এলাকায় ইলিশসহ সকল ধরনের মৎস্য আহরণে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা চলবে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।
জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে বরিশালের সদর উপজেলার চরমোনাই জুনাহার এলাকা থেকে চাঁদপুরের ষাটনল পর্যন্ত ৮২ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় অভিযান পরিচালনা করবে নৌবাহিনী, নৌ পুলিশ, কোস্টগার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তর।
প্রতিবছর জাটকা ইলিশকে পূর্ণাঙ্গ ইলিশে পরিণত হওয়ার সুযোগ দিতে এই দুই মাস মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অভয়াশ্রম এলাকায় মাছ শিকার করলে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড ও আর্থিক জরিমানার বিধান রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
মৎস্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞাকালে বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় ২ লাখ ৩৪ হাজার ৪২১ জেলে পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে। এর মধ্যে বরিশাল জেলার ১০ উপজেলার ৪৪ হাজার ৭৩৬ জন নিবন্ধিত ইলিশ জেলেকে সহায়তা প্রদান করা হবে।
জেলেরা জানান, নিষেধাজ্ঞাকালে তারা কর্মহীন হয়ে পড়েন এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। নির্ধারিত সময়ে খাদ্য সহায়তার চাল না পৌঁছালে অনেকেই বাধ্য হয়ে নদীতে মাছ ধরতে নামেন। অনেক প্রকৃত জেলে এখনো জেলে কার্ড ও সরকারি সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।
প্রকৃত জেলেদের মাঝে সঠিকভাবে খাদ্য সহায়তা ও জেলে কার্ড বিতরণের দাবি জানান তারা।
বরিশাল জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ড. মো. হাদিউজ্জামান বলেন, ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে কঠোরভাবে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়ন করা হবে। আইন অমান্য করে কেউ ইলিশ শিকার করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বিশেষ করে হিজলা ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলায় দিন-রাত নজরদারির জন্য স্পিডবোট ও লঞ্চের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন জানান, মেঘনা ও তেঁতুলিয়াসহ জেলার নদ-নদীর ১৯০ কিলোমিটার এলাকায় অবস্থিত দুটি অভয়াশ্রমে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। এর ফলে জাটকা রক্ষার পাশাপাশি অন্যান্য মাছের উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে। সচেতনতা বাড়াতে প্রতিদিন স্থানীয় হাট-বাজার, জেলে পল্লী, মাছঘাট ও আড়তে সভা করা হচ্ছে।
ভোলার জেলে আব্দুস সালাম ও তার সহকর্মীরা জানান, রোজার মধ্যে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় সঠিকভাবে সহায়তা না পেলে পরিবার নিয়ে অনাহারে কষ্ট করতে হবে। এ সময়ে প্রশাসনের সহানুভূতিশীল আচরণ প্রত্যাশা করেন তারা।
বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আনিসুজ্জামান বলেন, বরিশাল বিভাগের অভয়াশ্রমগুলো নিরাপদ রাখতে সর্বাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সময়ের আলো/আরবিএন