ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুকে স্বাগত জানিয়ে ‘আমাদের সময়ের এক রক্তপিপাসু স্বৈরশাসক’ বলে আখ্যায়িত করেছেন দেশটির সর্বশেষ শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির জ্যেষ্ঠ পুত্র রেজা পাহলভি।
বিবিসি বাংলা লিখেছে, ইরানের ঐতিহাসিক রাজতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থায় সিংহাসনের উত্তরাধিকারী হিসেবে জন্মের পর থেকেই প্রস্তুত করা হচ্ছিলো রেজা পাহলভিকে। ১৯৭৯ সালের ইসলামিক বিপ্লব যখন তার বাবার রাজতন্ত্রকে উৎখাত করে, তখন তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যুদ্ধবিমান চালনার প্রশিক্ষণ নিচ্ছিলেন।
দূর থেকেই তিনি দেখেছেন, তার বাবা মোহাম্মদ রেজা শাহ পাহলভি, যিনি একসময় পশ্চিমা মিত্রদের সমর্থন পেয়েছিলেন, তিনি কীভাবে এক দেশ থেকে আরেক দেশে আশ্রয় খুঁজে ফিরেছেন এবং শেষ পর্যন্ত ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মিশরে মারা যান।
হঠাৎ ক্ষমতা হারানোর পর তরুণ যুবরাজ ও তার পরিবার রাষ্ট্রহীন হয়ে পড়ে এবং নির্বাসনে জীবন কাটাতে বাধ্য হন। তখন তাদের ভরসা ছিল দিন দিন কমতে থাকা হাতে গোনা কিছু রাজতন্ত্রপন্থি ও শুভাকাঙ্ক্ষী।
পরের কয়েক দশকে পাহলভি পরিবার একাধিকবার ট্র্যাজেডির মুখে পড়ে। রেজা পাহলভির ছোট বোন ও ছোট ভাই দুজনেই আত্মহত্যা করেন।
ফলে, অনেকেই যাকে ইতিহাসের পাতায় হারিয়ে যাওয়া রাজবংশ বলে মনে করতেন, সেই বংশের প্রতীকী প্রধান হিসেবে শেষ পর্যন্ত রেজা পাহলভিই থেকে যান।
এখন ৬৫ বছর বয়সে তিনি আবারও দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখার চেষ্টা করছেন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির কাছে এক শান্ত উপশহরে বসবাস করেন রেজা পাহলভি। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়তুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর পর সরকারেরও যদি পতন ঘটে, তাহলে পাহলভিপুত্রের ফেরার পথ তৈরি হবে বলে তার সমর্থকরা আশা করছেন।
সময়ের আলো/এআর