রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে পেঁয়াজের বীজ চাষ। তুলনামূলক কম খরচে বেশি লাভের সম্ভাবনা থাকায় চলতি মৌসুমে অনেক কৃষকই বীজ আবাদে আগ্রহী হয়েছেন। অনুকূল আবহাওয়া ও উর্বর জমির কারণে এবার ফলন নিয়েও কৃষকদের মধ্যে আশাবাদ দেখা যাচ্ছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া পেঁয়াজের বীজ চাষ এখন বাণিজ্যিক রূপ নিয়েছে।
এ বছর গোদাগাড়ীর প্রায় ১৫৫ হেক্টর জমিতে তিনটি জাতের পেঁয়াজের বীজ আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে জনপ্রিয় মেটাল কিং, তাহেরপুরী এবং একটি উন্নত জাত। এসব জাত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়াও ৬ থেকে ৭ প্রকার পেঁয়াজের বীজ আবাদ করা হয়েছে ।
কৃষক খালেক বলেন, প্রতিবছরই আমি পেঁয়াজের বীজ চাষ করি। এবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমিতে চাষ করেছি। আবহাওয়া ভালো থাকলে লাভের সম্ভাবনা অনেক। তবে বৈশাখে শিলাবৃষ্টি বড় ঝুঁকি। শিল পড়লে কদম ফুল নষ্ট হয়ে যায়। আমাদের কাছে পেঁয়াজের কদমের বীজ ‘কালো সোনা’ দাম বেশি, লাভও বেশি।
নতুন চাষিরাও আশাবাদী। তারা জানিয়েছেন, আগে শুধুমাত্র পেঁয়াজ উৎপাদন করতেন, এবার প্রথমবারের মতো বীজ আবাদ করেছেন। বাজারে চাহিদা ভালো থাকায় তারা লাভের আশা করছেন। তাদের মতে, সময়মতো সেচ, সার প্রয়োগ, আগাছা দমন ও রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ করলে ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।
গোদাগাড়ী উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তা মরিয়ম আহমেদ বলেন, গোদাগাড়ীর মাটি ও আবহাওয়া পেঁয়াজের বীজ উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। আমরা নিয়মিত মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছি। সঠিক পরিচর্যা নিশ্চিত করা গেলে ভালো ফলন পাওয়া সম্ভব।
স্থানীয় বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উৎপাদন ভালো হলে গোদাগাড়ীর পেঁয়াজের বীজ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। এতে কৃষকের আয় বাড়বে এবং স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সময়ের আলো/জোই