বরিশালের মুলাদীতে মাদকের টাকা চেয়ে না পেয়ে পিটিয়ে আহত করা হাফেজ হাবিবুল্লাহর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। ওই সময় বাবাকে বাঁচাতে গেলে হাবিবুল্লাহর মেয়েকে পিটিয়ে জখম করা হয়।
হাবিবুল্লাহ সোমবার (২ মার্চ) ভোরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।
এর আগে ২৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সফিপুর ইউনিয়নের উত্তর বালিয়াতলী গ্রামের নিজ বাড়িতে শাতিল শরীফ (৩২) নামের এক মাদকসেবী মেয়েসহ হাবিবুল্লাহকে পিটিয়ে আহত করে।
হাবিবুল্লাহ উত্তর বালিয়াতলী গ্রামের মৃত আব্দুস ছত্তার ভূঁইয়ার ছেলে।
হাবিবুল্লাহর মেয়ে আহত ফাতিহা জানান, শুক্রবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে একই এলাকার শাতিল তাদের বাড়িতে যান। ওই সময় তার বাবা বাড়িতে ছিলেন না। শাতিল বারান্দার সামনে দাঁড়িয়েই ফাতিহার কাছে ভাত খেতে চান। ফাতিহা তাকে গরুর মাংস দিয়ে ভাত দিলে তিনি বারান্দায় বসে পড়েন। সকাল ১০টার দিকে হাবিবুল্লাহ বাড়িতে ফিরে শাতিলকে বারান্দায় বসে ভাত খেতে দেখলে তাকে ঘরের মধ্যে টেবিলে বসে খাওয়ার অনুরোধ করেন। শাতিল ঘরের মধ্যে প্রবেশ করেই গরুর মাংস দিয়ে ভাত খাবে না জানিয়ে ডিম ভাজি দিতে বলেন। ফাতিহা ডিম ভাজি করতে গেলে শাতিল মাদক কেনার জন্য হাবিবুল্লাহর কাছে টাকা চান। হাবিবুল্লাহ টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শাতিল ক্ষিপ্ত হয়ে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে তাকে মারাত্মক আহত করেন।
বাবার ডাক-চিৎকারে ফাতিহা তাকে রক্ষা করতে গেলে শাতিল তাকেও পিটিয়ে আহত করে চলে যান। পরে স্থানীয়রা হাবিবুল্লাহ ও ফাতিহাকে উদ্ধার করে ওই দিনই বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে হাবিবুল্লাহার অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠায়। সেখানে সোমবার ভোরে তার মৃত্যু হয়।
এ ব্যাপারে মুলাদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোমিন হোসেন বলেন, ভোররাতে হাবিবুল্লাহর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার মেয়ে ফাহিতা। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/জোই