তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করেছে কাতার। সোমবার (২ মার্চ) কাতারের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি QatarEnergy এ ঘোষণা দেয়। ইরান থেকে আসা ড্রোন হামলার কারণে এলএনজি এবং সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন সম্পূর্ণ স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
কোম্পানির অফিসিয়াল বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রাস লাফফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি এবং মেসাইদ ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে QatarEnergy-এর অপারেটিং সুবিধাগুলোতে সামরিক হামলার কারণে কোম্পানি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (LNG) এবং সংশ্লিষ্ট পণ্যের উৎপাদন বন্ধ করেছে।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দুটি ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে-একটি ড্রোন মেসাইদে পাওয়ার প্ল্যান্টের ওয়াটার ট্যাঙ্কে আঘাত হেনেছে। অপরটি রাস লাফফানে QatarEnergy-এর একটি এনার্জি সুবিধায় আঘাত করেছে।
হামলায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়নের কাজ চলছে।
প্রসঙ্গত, কাতার বিশ্বের এলএনজি রপ্তানির প্রায় ১৮ থেকে ২০% সরবরাহ করে, যার বড় অংশ এশিয়া (জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন) এবং ইউরোপের দিকে যায়। এই স্থগিতাদেশের ফলে গ্লোবাল এনার্জি মার্কেটে বড় ধাক্কা লাগতে পারে। ইতিমধ্যে এশিয়ান এলএনজি বেঞ্চমার্ক দাম ৪১% পর্যন্ত বেড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। ইউরোপে ডাচ TTF গ্যাস প্রাইসও তীব্রভাবে বেড়েছে।
এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে ইরান-ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত তীব্রতর হয়েছে। সৌদি আরব, ইরাকি কুর্দিস্তান এবং ইসরায়েলের কিছু তেল-গ্যাস সুবিধাও প্রিকশনারি শাটডাউন করা হয়েছে।
QatarEnergy জানিয়েছে, তারা স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখবে এবং পরিস্থিতির আপডেট দেবে। কতদিন এই স্থগিতাদেশ চলবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
এই ঘটনা বিশ্বব্যাপী এনার্জি সাপ্লাই চেইন এবং দামের ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন। পরিস্থিতি নজরে রাখা হচ্ছে।
সময়ের আলো/আআ