কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের জামতলাপাড় থেকে কচুয়ারপাড়-মাদাই খাল সংযোগ সড়কটিতে নির্মাণাধীন ডুবুরির খাল ব্রিজটি দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে।
ব্রিজটি পুনর্নির্মাণ না করায় ভোগান্তিতে রয়েছেন দুই পাড়ের কয়েক হাজার মানুষ। সরকারি কোনো উদ্যোগ না থাকায় গ্রামবাসী ও জনপ্রতিনিধিদের সহায়তায় ভাঙা ব্রিজের ওপর কাঠের পাটাতন বসিয়ে সাময়িকভাবে চলাচল উপযোগী করে তোলা হলেও দীর্ঘদিন ধরে পাটাতনটি সংস্কার না করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখানে একটি নতুন টেকসই ব্রিজ নির্মাণের দাবি যেন কারও কানেই পৌঁছাচ্ছে না।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে একই জায়গায় পরপর দুটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। স্বল্প বাজেট ও নিম্নমানের কাজ হওয়ায় নির্মাণের ২ থেকে ৩ বছরের মধ্যে ব্রিজ দুটি বন্যার সময় তীব্র স্রোতে দেবে যায়। ২০০৬ সালে সবশেষ নির্মিত ব্রিজটি ২০০৮ সালের বন্যায় বিধ্বস্ত হওয়ার পর এই ব্রিজটি নিয়ে আর কেউ মাথা ঘামায়নি। ফলে দুই পাড়ের কয়েক হাজার মানুষ বন্যা ও বর্ষার সময় চরম ঝুঁকির মধ্যে পারাপার করছেন।
এলাকার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী হাসেম আলী, জয়নুল আবেদীন ও আক্কাস জানান, ব্রিজটি দিয়ে ঠিকমতো আমরা হাঁটতেও পারিনি। অসুস্থ রোগী কিংবা গর্ভবতী নারীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হলে কয়েক কিলোমিটার ভাঙা রাস্তা পাড়ি দিয়ে চলাচল করতে হয়। ঝুঁকিপূর্ণ পাটাতনের ওপর দিয়ে অটো চলাচল করতে পারে না। ফলে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল, সার, ধান-চাল পরিবহনে আমাদের খুবই সমস্যা হচ্ছে।
ভ্যানচালক মকবুল মিয়া জানান, আমরা এমন একটা জায়গায় বসবাস করি যে কোনো প্রয়োজনীয় মালামাল পরিবহন করতে পারি না। বন্যার সময় কাঠের পাটাতনটি ভয়ংকর অবস্থায় থাকে। যেকোনো সময় উল্টে যেতে পারে।
শিক্ষার্থী হোজায়ফা, তৌফিকা ও মিশু বলেন, এই পাটাতনের সেতু পার হয়ে অনেক কষ্ট করে স্কুলে যাতায়াত করতে হয়। এখানে একটি ব্রিজ হলে আমাদের কষ্ট লাঘব হবে।
বিষয়টি নিয়ে কথা হয় নাগেশ্বরী উপজেলার ভিতরবন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শফিউল আলম শফির সঙ্গে।
তিনি জানান, ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ২০০৬ সালে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল।
স্বল্প বাজেট ও নিম্নমানের কাজের কারণে ব্রিজটি বন্যায় ভেঙে পড়ে। এখানে একটি গার্ডার ব্রিজের প্রস্তাবনা তুলে ধরেন এই জনপ্রতিনিধি। ভেঙে পড়া ব্রিজটি নতুনভাবে নির্মাণ করা হলে জামতলা ও কচুয়ারপাড় এলাকার কয়েক হাজার মানুষের জীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সচল থাকবে এবং তাদের দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সময়ের আলো/এআর