বছরের ৭ মাসই পানিবন্দি জীবন

যশোর সংবাদদাতা

সারাদেশ

কেশবপুরের জলাবদ্ধ বাগডাঙ্গা-মনোহরনগর গ্রামে মানুষ শারীরিক ও মানসিক দিক নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। বছরের ৭ মাসই তাদের পানিবন্দি অবস্থায় থাকতে

2026-03-03T05:27:51+00:00
2026-03-03T05:27:51+00:00
 
  শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
বছরের ৭ মাসই পানিবন্দি জীবন
যশোর সংবাদদাতা
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ৫:২৭ এএম 
পানিবন্দি জীবন। ছবি ; সময়ের আলো
কেশবপুরের জলাবদ্ধ বাগডাঙ্গা-মনোহরনগর গ্রামে মানুষ শারীরিক ও মানসিক দিক নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। বছরের ৭ মাসই তাদের পানিবন্দি অবস্থায় থাকতে হয়। কাদা পানিতে একাকার হয়ে রয়েছে উঠান বাড়ি। শীতকালেও বাড়ি থেকে বের হতে বাঁশের সাঁকোই একমাত্র ভরসা। তাদের টিকে থাকতে হয় পানির সঙ্গে সংগ্রাম করে। এলাকার নদ-নদী পলি দিয়ে ভরাট হওয়ায় পানি নিষ্কাশন হতে না পেরে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে এ অবস্থা চলতে থাকায় এলাকার পরিবেশ হয়ে পড়েছে ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক মানুষ নানা অসুখে আক্রান্ত হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে।

সরেজমিন পাঁজিয়া ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা-মনোহরনগর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, মনোহরনগর গ্রামের মানুষের বাড়িতে এখনও পানি। বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে তাদের দৈনন্দিন কাজ করতে হয়। মনোহরনগর গ্রামে অচিন্ত্য সরকারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, উঠানে পানি ও কাদায় একাকার হয়ে রয়েছে। গত ৫ থেকে ৬ বছর ধরে বছরের ৭ মাসই পানিবন্দি হয়ে থাকতে হয় তাদের। 

বাগডাঙ্গা গ্রামের স্কুলছাত্রী হিয়া রায় জানায়, বছরের অর্ধেক সময় ধরে তাদের জলাবদ্ধতার পানিতে শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি মানসিকভাবেও বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে হয়। স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের বাড়ি থেকে বের হয়ে যাতায়াতে পড়তে হয় সীমাহীন দুর্ভোগে। 

একই গ্রামের কৃষক বিমল রায় বলেন, জলাবদ্ধতার কারণে বাড়ি থেকে রাস্তায় বের হতে ৮০০ হাত লম্বা বাঁশের সাঁকো তৈরি করে নেওয়া হয়েছে। বাড়িতে যাতায়াতে তাদের বাঁশের সাঁকোর ওপর ভরসা করতে হয় বছরের ৭ মাস। সন্ধ্যা রানী রায় বলেন, জলাবদ্ধতায় তারা এখন দিশাহারা। অসুখে চাল কেনার পাশাপাশি ওষুধ কিনতেও পড়তে হয় বিপাকে। 

কৃষক বিষ্ণুপদ রায় বলেন, ১০ থেকে ১২ বছর ধরে বিলে বোরো আবাদ হয় না। বাড়ির মধ্যের পানি সেচ দিয়ে সরানো হয়। এলাকায় গো-খাদ্যের তীব্র সংকট চলছে। বাগডাঙ্গা বিল থেকে কচুরিপানা কাটার সময় অনিমা সরকার বলেন, তার ২টি গরু রয়েছে। কচুরিপানার ওপর ভরসা করেই গরু পালন করা হচ্ছে। 

হরি ঘ্যাংরাইল অববাহিকার জলাবদ্ধতা নিরসন কমিটির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বাগডাঙ্গা-মনোহরনগর গ্রামের মানুষদের টিকে থাকতে হয় পানির সঙ্গে সংগ্রাম করেই। গ্রাম দুটি কয়েক বছর ধরে জলাবদ্ধতায় আক্রান্ত হয়ে রয়েছে।  

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার রেহেনেওয়াজ বলেন, দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতা থাকলে সে এলাকার মানুষের মধ্যে ডায়রিয়া, চর্মরোগ, জন্ডিস, কলেরাসহ পানিবাহিত রোগ হয়ে স্বাস্থ্যগত দিক ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। 

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী ফিরোজ হোসেন বলেন, নদ-নদী খনন শুরু হয়েছে। খনন শেষে ভবদহ এলাকার ওই গ্রাম ২টিতে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না। তখন তাদের বাড়ি থেকে বের হতে কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না।

সময়ের আলো/আরবিএন 


  বিষয়:   পানিবন্দি  সংগ্রাম  নদ-নদী 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: