বর্তমান সমাজে চোর-ডাকাতি, ছিনতাই-রাহাজানি যেন নিত্যদিনের ঘটনা। সামান্য অর্থের জন্য অনেকেই নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে অনৈতিক অর্থের লোভে ঝুঁকছেন। আর এরই মাঝে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন খেটে খাওয়া চা বিক্রেতা জুবায়ের হোসেন।
ফরিদপুর জেলার ভাঙ্গা উপজেলার পৌরসভার সামনে তার ছোট্ট একটি চায়ের দোকান। গত ৯ ফেব্রুয়ারি দুপুর তিনটার দিকে দোকানের ভেতরে একটি ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। ব্যাগটি খুলতেই বেরিয়ে আসে বান্ডিল ভর্তি টাকা। মোট টাকার পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭০ টাকা।
তাৎক্ষণিকভাবে ব্যাগের মালিককে খুঁজতে শুরু করেন জুবায়ের। আশপাশের লোকজনকে বিষয়টি জানান। মালিকের সন্ধান না পেয়ে ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন। পাশাপাশি ভাঙ্গা পৌরসভা ও আশপাশের এলাকায় মাইকিং করে জানান ‘ব্যাগ ভর্তি টাকা পাওয়া গেছে’।
মাইকিং শুনে মিরাজ হোসেন নামে এক ব্যক্তি যোগাযোগ করেন এবং টাকাটি তার বলে দাবি করেন। জুবায়ের তাকে প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণ নিয়ে আসতে বলেন। যাচাই-বাছাই শেষে নিশ্চিত হওয়া যায়, টাকার প্রকৃত মালিক তিনিই।
হারানো টাকার মালিক ভাঙ্গা উপজেলার আলগি ইউনিয়নের শাহমলুকদি গ্রামের বাসিন্দা মিরাজ হোসেন জানান, গত ৯ ফেব্রুয়ারি হার্টে রিং পরানোর জন্য ঢাকায় যাওয়ার পথে তিনি ওই দোকানে চা খেতে যান। তার সঙ্গে একটি বড় ব্যাগ ছিল, যার ভেতরে ছোট একটি ব্যাগে অপারেশনের টাকা রাখা ছিল। অসাবধানতাবশত বড় ব্যাগ থেকে টাকার ব্যাগটি পড়ে যায়, কিন্তু তিনি তা বুঝতে পারেননি।
তিনি বলেন, এই টাকা হারানোর পর থেকে আমার হার্টের অপারেশন করা সম্ভব হয়নি। আমি খুব অসুস্থ। আজই ঢাকা যাব অপারেশনের জন্য। টাকা ফিরে পেয়ে আমি খুবই খুশি। আল্লাহর কাছে জুবায়েরের জন্য দোয়া করি।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদরুল আলম সিয়াম জানান, কিছুদিন আগে জুবায়ের তার সঙ্গে যোগাযোগ করে হারানো টাকা প্রকৃত মালিকের কাছে ফেরত দিতে সহযোগিতা চান। প্রয়োজনীয় প্রমাণ যাচাই-বাছাই শেষে সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে আজ ১ লাখ ৫৭ হাজার ৭০ টাকা মালিকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, চায়ের দোকানদার জুবায়ের মিয়া সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। অন্যদিকে বৃদ্ধ মিরাজ শেখ টাকা পেয়ে অত্যন্ত খুশি হয়েছেন।
সময়ের আলো/আরবিএন