ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান সংঘাত এক ভয়াবহ ও বিধ্বংসী রূপ নিয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) অভিযোগ করেছে, ইরান তাদের ভূখণ্ডে সাধারণ ক্ষেপণাস্ত্রের পরিবর্তে অত্যন্ত বিপজ্জনক ‘ক্লাস্টার বোমা’ বা গুচ্ছ বোমার ‘সাব-মিউনিশন’ ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েলের মধ্যাঞ্চলীয় বেশ কিছু এলাকায় এই বিশেষ ধরনের শক্তিশালী বোমা ব্যবহারের ফলে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন ইসরায়েলি চিকিৎসকরা।
তেল আবিবের জেলা কমান্ডার হাইম সারগারফ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দেশের মধ্যাঞ্চলের একাধিক স্থানে এই ক্লাস্টার বোমা হামলার খবর পাওয়া গেছে এবং এতে বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।
আইডিএফ এর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের জুনের যুদ্ধেও ইরান একই ধরনের মারণাস্ত্র ব্যবহার করেছিল।
এই ক্লাস্টার বোমা বহনকারী ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলো নিচে নামার সময় এর মূল অংশ বা ওয়ারহেডটি আকাশেই খুলে যায় এবং প্রায় ৮ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের বিশাল এলাকা জুড়ে ২০টি ছোট ছোট বোমা ছড়িয়ে দেয়। এই প্রতিটি ক্ষুদ্র বোমায় প্রায় আড়াই কেজি বা সাড়ে পাঁচ পাউন্ড ওজনের শক্তিশালী বিস্ফোরক থাকে, যা ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে সক্ষম।
ইসরায়েলের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের তল্লাশি ও উদ্ধারকারী দল এবং জরুরি সেবা সংস্থার একাধিক ইউনিট বর্তমানে মধ্যাঞ্চলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলোতে কাজ করছে এবং পরিস্থিতির ভয়াবহতা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে এই ক্লাস্টার বোমা হামলার পরও বেসামরিক নাগরিকদের নিরাপত্তার জন্য ‘হোম ফ্রন্ট কমান্ড’ এর বর্তমান নির্দেশনায় আপাতত কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি বলে জানিয়েছে আইডিএফ।
মূলত জনবহুল এলাকায় এই ধরনের ছড়িয়ে পড়া বোমার ব্যবহার যুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও উদ্বেগজনক করে তুলেছে।
সময়ের আলো/আরবিএন