সবুজ পাহাড় এখন মুকুলের গালিচায় ঢাকা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

সারাদেশ

পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির প্রতিটি আমবাগান এখন মুকুলে ছেয়ে গেছে। দেখলে মনে হবে যেন সবুজ পাহাড় মুকুলের গালিচায় ঢাকা। বাতাসে ভেসে

2026-03-03T22:52:38+00:00
2026-03-03T22:53:08+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
সবুজ পাহাড় এখন মুকুলের গালিচায় ঢাকা
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬, ১০:৫২ পিএম  আপডেট: ০৩.০৩.২০২৬ ১০:৫৩ পিএম
মুকুলের গালিচায় ঢাকা। ছবি : সময়ের আলো
পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ির প্রতিটি আমবাগান এখন মুকুলে ছেয়ে গেছে। দেখলে মনে হবে যেন সবুজ পাহাড় মুকুলের গালিচায় ঢাকা। বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে মুকুলের মিষ্টি সুবাস, যা যেন মধুর মাসের আগমনী বার্তা নিয়ে এসেছে।

বাগানিরা আমের মুকুল দেখে আশার বুক বাঁধছেন এবং বাড়তি পরিচর্যা নিচ্ছেন। তবে পাহাড়ে প্রচণ্ড তাপদাহে মুকুল ঝরে পড়ার শঙ্কা রয়েইছে। সরকারি উদ্যোগে যদি ওয়াটার ইরিগ্রেশন সিস্টেম বা পানি সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালু করা হয়, তাহলে তারা আম ঝরে পড়া রোধ করতে পারবে এবং ৭০-৮০% আম বাজারে রপ্তানি করতে সক্ষম হতো।

শ্রমিক জনকুমার ত্রিপুরা বলেন, এবছর বাগানে ভালো আম এসেছে। তাই বাড়তি পরিচর্যার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছি। মুকুল ঝরে না পড়ার জন্য নিয়মিত কাজ করছি। রাসায়নিক সার ব্যবহার না করে জৈব সার ব্যবহার করছি, যাতে ফরমালিন মুক্ত আম বাজারজাত করা যায়।

প্রকাশ নন্দ ত্রিপুরা জানান, প্রতিবছর মুকুল আসার সময় আমরা শঙ্কিত থাকি। পাহাড়ে গরমে মুকুল ঝরে যায়। এজন্য আমরা গাছের গোড়ায় মালসিং পদ্ধতি ব্যবহার করছি যাতে গোড়া ঠান্ডা থাকে। সরকারি ওয়াটার ইরিগ্রেশন থাকলে মুকুল ঝরে পড়া রোধ করা যেত।

মং গ্রীন লাইফ এগ্রো ফার্মের কর্ণধার মংশিতু মারমা বলেন, আমার বাগানে ৪০ একর জমিতে ৫৪ প্রজাতির দেশি-বিদেশি আমের গাছ রয়েছে। মুকুল এসেছে এবং তাই বাড়তি যত্ন নিচ্ছি। গত বছর আমরা ফল পাইনি। এবছর প্রতিটি গাছে মুকুল দেখে ভালো লাগছে। তবে ফলন আবহাওয়ার ওপর নির্ভর করে। পাহাড়ে গরম ও পানির স্বল্পতার কারণে মুকুল ঝরে যায়। সরকারিভাবে পানি ধরে রাখার ব্যবস্থা হলে আমরা ভালো ফল বাজারজাত করতে পারতাম।

খাগড়াছড়ি কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, এবছর জেলায় ৫ হাজার হেক্টর জমিতে প্রায় ১০ হাজার কৃষক আমের চাষ করেছেন। অনুকূল আবহাওয়ায় নতুন নতুন বাগানও সৃষ্টি হচ্ছে।

খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নাসির উদ্দিন জানান, এ বছর কুয়াশা কম থাকায় প্রতিটি বাগানে মুকুল ভালো হয়েছে। কৃষি কর্মকর্তারা নিয়মিত বালাই ও ছত্রাক নাশক স্প্রে করার পরামর্শ দিচ্ছেন। এছাড়া পাহাড়ে গরমে মুকুল ঝরে না পড়ার জন্য ওয়াটার ইরিগ্রেশন ব্যবস্থা চালু করার বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে। সরকার উদ্যোগ নিলে আমরা মুকুল ঝরে পড়া রোধ করতে সক্ষম হবো এবং ভবিষ্যতে জেলা আরও বেশি আম উৎপাদনে সক্ষম হবে।

খাগড়াছড়ি জেলা মিষ্টতায় ভরা আম্রপালি, দেশি কাঁচামিঠা, মল্লিকা, বারি-৪, সূর্যে ডিম, কিউজাই ও রেড পালমার আম উৎপাদনে পরিচিত। এই আম চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে এবং খাগড়াছড়ি জেলা ‘আমের রাজ্য’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

সময়ের আলো/আরবিএন 


  বিষয়:   খাগড়াছড়ি  আমবাগান  পাহাড়  মুকুল 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: