ইসরায়েল ইরান ও লেবাননের বাইরে যুদ্ধ বিস্তারের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এক লাখ রিজার্ভ সেনাকে ডেকে পাঠানো শুরু করেছে।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলি গণমাধ্যম এমনটাই জানিয়েছে। ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম ওয়াল্লা জানায়, সামরিক গোয়েন্দা ইউনিটগুলো অতিরিক্ত যুদ্ধক্ষেত্র এবং যুদ্ধের বিস্তার মোকাবেলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রিজার্ভ সেনাদের ডেকে পাঠাচ্ছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী রোববার জানায়, তারা প্রায় ১ লাখ রিজার্ভ সেনাকে গ্রহণ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, যাদেরকে তাদের চলমান ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’-এর অধীনে বিভিন্ন ফ্রন্টে শক্তি বাড়ানোর জন্য ডাকা হয়েছে।
সোমবার ভোরে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানায়, তারা লেবাননে যোদ্ধাগোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ‘আক্রমণাত্মক যুদ্ধ’ শুরু করেছে। ইসরায়েলি বিমান হামলায় বৈরুতের দক্ষিণ উপশহর এবং দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকা লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এতে ৩১ জন নিহত এবং ১৪৯ জন আহত হয়েছে। একইসঙ্গে হিজবুল্লাহ সোমবার ভোরে জানায়, তারা লেবাননের ওপর তেল আবিবের প্রায় প্রতিদিনের হামলা এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার প্রতিক্রিয়ায় একটি ইসরায়েলি সামরিক ঘাঁটিতে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
শনিবার সকাল থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হামলা চালাচ্ছে। এতে শত শত মানুষ নিহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে খামেনি এবং শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তারাও রয়েছেন। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও স্বার্থকে লক্ষ্য করে মিসাইল ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেল আবিব ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে যে, তারা এমন পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি চালাচ্ছে যা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য হুমকি।
অন্যদিকে ইরান দাবি করেছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না।
/ইউএমএইচ