রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হকের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি আর ৯ শতাংশ ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ তুলে তাকে অপসারণের দাবি জানিয়েছে ‘সচেতন রাজশাহীবাসী’।
বুধবার (৪ মার্চ) সকালে নগরীর সাহেববাজার জিরোপয়েন্টে এক মানববন্ধন থেকে তাকে তিন দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে।
এ সময় মানববন্ধনে জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের সভাপতি সাইদুর রহমান ঘোষণা দেন, আগামী তিন দিনের মধ্যে ভিসিকে অপসারণ করতে হবে। তা না হলে ভিসির দপ্তর ঘেরাও করা হবে।
তিনি বলেন, এই ভিসি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নানা দুর্নীতিতে জড়িয়েছেন। ক্যাম্পাসের কয়েক হাজার গাছের আম লুট থেকে শুরু করে শত কোটি টাকার গাছ নামমাত্র মূল্যে একটা সিন্ডিকেটের হাতে তুলে দেওয়ার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৭৭ কোটি টাকার কাজ পাইয়ে দিতে ঠিকাদারের কাছে ৯ শতাংশ কমিশন চেয়েছেন বলেও দাবি করেছেন এক ঠিকাদার।
অন্যদিকে, এই দিন সকালেই এক সংবাদ সম্মেলন করে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভিসি জাওয়াদুল হক।
তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ চাওয়ার অভিযোগ পুরোপুরি হাস্যকর। যেসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অভিযোগ করেছে, তারা এখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো কাজই করেনি। তিনি নিয়ম মেনেই সব করছেন দাবি করে বলেন, তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে।
জেনিট কর্পোরেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক আতাউর রহমান টিপুর দাবি, ভিসি তাকে কাজ দেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে ৯ শতাংশ কমিশন চেয়েছিলেন। এই খবর জানাজানি হওয়ার পর থেকেই রাজশাহীতে তোলপাড় শুরু হয়।
মানববন্ধনে ক্যাবের রাজশাহীর সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, এই ভিসি আওয়ামী লীগের আমলে কলেজ পরিদর্শক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকসহ গুরুত্বপূর্ণ সাতটি পদে ছিলেন। তখনই দুর্নীতি করে টাকা কামিয়েছেন। সেই টাকায় ভিসি হয়েছেন। এখন টাকা তুলতে ঠিকাদারদের কাছে কমিশন খাচ্ছেন। এমনকি সনদ নেই এমন ব্যক্তিকেও তিনি পরিচালক পদে নিয়োগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ তোলা হয়।
এই ভিসিকে অপসারণ করা না হলে তাকে টেনে হিঁচড়ে তার চেয়ার থেকে নামানো হবে বলেও জানান তিনি।
মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহজাহান আলী বরজাহান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ, জননেতা আতাউর রহমান স্মৃতি পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আসলাম-উদ-দৌলা, সামাজিক সংগঠক সালাহউদ্দিন মিন্টু, ব্যবসায়ী নেতা শফিকুর রহমান প্রমুখ।
সময়ের আলো/আরবিএন