চলতি বইমেলায় মোশতাক আহমদের নতুন উপন্যাস ‘সম্রাট ও প্রতিদ্বন্দ্বীগণ’ প্রকাশিত হয়েছে। প্রকাশ করেছে কবি প্রকাশনী। প্রচ্ছদ করেছেন সব্যসাচী হাজরা, মুদ্রিত মূল্য ৫০০ টাকা। মেলায় স্টল নম্বর ৭০৫-৭০৬-এ পাওয়া যাচ্ছে বইটি।
উপন্যাসটি বাংলাদেশের কবিতা ও কবিদের জীবনের একটি টালমাটাল সময়কে কেন্দ্র করে রচিত। তখন দেশের রাজনীতি সেনাশাসনের অধীনে ছিল, শাসক ছিলেন জেনারেল এরশাদ। অনেক কবি নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তাদের সাহস ও প্রতিবাদের মধ্য দিয়ে দেশ জেগে উঠেছিল। আর কিছু কবি স্বার্থের কারণে নতজানু ছিলেন। এই সময় বন্ধুত্ব এবং স্বার্থের ফারাক তাদের জীবন ও সম্পর্কের মধ্যে বিশাল ফাঁক তৈরি করেছিল।
বইটিতে দেখা যায়, শামসুর রাহমান সরকারি দৈনিকের বড় পদ ত্যাগ করে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রধান পুরুষ হয়ে ওঠেন। জনপরিসরে তিনিই তখন কবিতার সম্রাট। আল মাহমুদ একাকী, দূর অজানায় বখতিয়ারের ঘোড়ায় চড়ে রওনা হন। প্রবাসে শহীদ কাদরী একাকী, বেদনাবিধ্বস্ত দর্শক। আর মোহাম্মদ রফিক ‘খোলা কবিতা’ লিখে রাষ্ট্রযন্ত্রের রোষানলে পড়েছেন।
উপন্যাসে বিদ্রোহের আবহে তরুণ কবিরা প্রেম ও বিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে জীবনকে নতুনভাবে অনুভব করেন। রাষ্ট্র, রাজনীতি ও রাজপথের উথালপাথাল কবিদের ব্যক্তিজীবনকেও অস্থির করেছে। একই সঙ্গে গঠিত হয়েছে জাতীয় কবিতা পরিষদ, যা মুক্তিকামী কবিদের সংগ্রামে একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা তৈরি করেছে।
মোশতাক আহমদ এই উপন্যাসে কবি ও রাজনীতি, প্রেম ও বিদ্রোহের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ের কবিতার ইতিহাসকে জীবন্তভাবে তুলে ধরেছেন।
আবুল হাসানের জীবনভিত্তিক উপন্যাস ‘ঝিনুক নীরবে সহো’ মোশতাক আহমদের উল্লেখযোগ্য সৃষ্টি। এছাড়া একই উপন্যাসের নেপথ্য কাহিনি নিয়ে তিনি ‘ঝিনুকের সন্ধানে’ বই লিখেছেন। তার অন্যান্য উল্লেখযোগ্য রচনার মধ্যে রয়েছে : স্মৃতিপাঠের বই ‘অক্ষরবন্দি জীবন’ ও ‘গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের গল্প’; বিচিত্র গদ্যের বই ‘নারসিসাসের আরশি’; কবিতার বই ‘সড়ক নম্বর দুঃখ বাড়ি নম্বর কষ্ট’, ‘মেঘপুরাণ’, ‘ভেবেছিলাম চড়ুইভাতি’, ‘ডুবোজাহাজের ডানা’; অনুবাদ কবিতার বই ‘যাই ভেসে দূর দেশে’ প্রভৃতি।
সময়ের আলো/আরবিএন