ভিজিডির বস্তায় পোকায় ভরা পচা চাল

আবু সাঈদ চান্দিনা (কুমিল্লা)

সারাদেশ

কুমিল্লার চান্দিনায় ঈদ উপলক্ষে হতদরিদ্র ও দুঃস্থ নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য সর্ববৃহৎ সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির (ভিজিডি) বস্তায় পোকায় ভরা নষ্ট

2026-03-05T04:13:56+00:00
2026-03-05T04:13:56+00:00
 
  শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬,
১ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
ভিজিডির বস্তায় পোকায় ভরা পচা চাল
আবু সাঈদ চান্দিনা (কুমিল্লা)
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬, ৪:১৩ এএম 
সংগৃহীত ছবি
কুমিল্লার চান্দিনায় ঈদ উপলক্ষে হতদরিদ্র ও দুঃস্থ নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য সর্ববৃহৎ সামাজিক নিরাপত্তামূলক কর্মসূচির (ভিজিডি) বস্তায় পোকায় ভরা নষ্ট চাল দেখা গেছে। ওই চাল দরিদ্রদের মাঝে বিতরণের পর সেগুলো বাড়ি থেকে আবার ইউনিয়ন পরিষদে ফেরত নিয়ে আসেন সুবিধাভোগীরা। উপজেলা খাদ্যগুদাম থেকে নষ্ট চাল সরবরাহ করার পর বৃষ্টির পানিকে দুষছেন খাদ্য কর্মকর্তা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঈদকে সামনে রেখে সারা দেশের ন্যায় চান্দিনা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে ভিজিডি কার্ডের সুবিধাভোগীদের মাঝে জনপ্রতি ৩০ কেজি করে চাল সরবরাহ করা হচ্ছে। গত সপ্তাহের শেষ দিকে উপজেলার বাতাঘাসী ইউনিয়নে একশজন সুবিধাভোগীর জন্য ৩ টন চাল সরবরাহ করে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কার্যালয়।

সেই মোতাবেক চালও বিতরণ করেন বাতাঘাসী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সাদেকুর রহমান। ইউনিয়ন পরিষদ অফিস থেকে ৩০ কেজির বস্তাভর্তি চাল বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর বিপদে পড়েন অন্তত ১৬ জন সুবিধাভোগী। তাদের বস্তার পুরো চাল পচা ও পোকায় আক্রান্ত। সঙ্গে সঙ্গেই তারা ওই চাল নিয়ে হাজির হন ইউনিয়ন অফিসে। কিন্তু সেই চাল তাৎক্ষণিক পরিবর্তন করে দেওয়ার সুযোগ ছিল না চেয়ারম্যানের।

এ বিষয়ে উপজেলা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. নাইমুল করিম টিটু জানান, বাতাঘাসী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে যে চাল বিতরণ করা হয়েছে সেগুলো আমাদের ৭ নং গুদামের। আর ওই গুদামের ছাদ চুইয়ে ভেতরে পানি পড়ায় কয়েকটি বস্তার চাল নষ্ট ছিল। শ্রমিকরা সেগুলো খেয়াল করেনি। চালগুলো আমরা ফেরত নিয়ে এসে ভালো চাল দেব।

এ বিষয়ে বাতাঘাসী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট সাদেকুর রহমান জানান, আমি চাল বিতরণ করে অফিসে বসার কিছুক্ষণ পর থেকে এক এক করে কার্ডধারী সুবিধাভোগীরা মাথায় করে চালের বস্তা নিয়ে আমার অফিসে আসে। তাদের কথা শুনে আমি বস্তা খুলে দেখি চালগুলো পচে কালচে হলুদ হয়ে আছে। আর সেগুলোতে ছোট-বড় পোকার অভাব নেই। এমন পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে আমি উপজেলায় যোগাযোগ করি এবং সেই চালগুলো ইউনিয়ন অফিসে রেখে দিই। মূলত খাদ্যগুদাম থেকে আমাকে যে একশ বস্তা চাল দেওয়া হয়েছে তার মধ্যে ১৬টি বস্তার চাল নষ্ট। প্লাস্টিকের বস্তায় চালগুলো থাকায় বিতরণের সময় আমরাও দেখিনি।

ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক সদস্য অভিযোগ করে বলেন, খাদ্যগুদামে নষ্ট চালের বস্তা থাকবে কীভাবে? গুদামের সঙ্গে জড়িত কিছু অসাধু ব্যক্তির যোগসাজশে এমন ঘটনা ঘটতে পারে।

এদিকে সরেজমিন খাদ্যগুদামের ৭ নং গোডাউনে গিয়ে দেখা যায়, ছাদের যে অংশটিতে চুইয়ে বৃষ্টির পানি পড়ার কথা বলছেন কর্মকর্তা সেই অংশে চালের কোনো বস্তাই ছিল না। এমনকি গত ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে বৃষ্টি হয়নি। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান স্থানীয়রা।

সময়ের আলো/আআ


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: