নওগাঁর মান্দায় চোর সন্দেহে রফিকুল ইসলাম (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে মাদরাসা থেকে আটকের পর শিক্ষকদের মারধরে মারা যাওয়া অভিযোগ উঠেছে। এ মৃত্যুকে নিয়ে এলাকায় ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
বুধবার (৪ মার্চ) দিবাগত রাতে উপজেলার প্রসাদপুর দারুল উলুম ইসলামীয়া কাওমী মাদরাসা ও এতিমখানা এ ঘটনা ঘটে। নিহত রফিকুল ইসলাম উপজেলার সদর ইউনিয়নের জিনারপুর গ্রামের মৃত জেহের আলীর ছেলে।
তবে শিক্ষকরা বলছে, স্থানীয়দের মারধরে মারা গেছে। ঘটনার পর প্রতিষ্ঠান প্রধান বিষয়টি ধামাচাপা দিতে বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
জানা গেছে, নিহত রফিকুল ইসলাম নামে ওই ব্যক্তি পানি খাওয়ার জন্য মাদরাসায় প্রবেশ করেছিলেন। কিন্তু তাকে চোর সন্দেহে আটক করে মাদরাসা শিক্ষক সাব্বিরসহ কয়েকজন। এরপর তাকে আমগাছের সাথে বেঁধে উপর্যুপরি মারধর করা হয়। মারধরের এক পর্যায়ে রফিকুল ইসলাম মারা যান। পরে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে।
স্থানীয় জহুরুল নামে একজন জানান, মাদরাসার আশপাশে কোনো বাড়ি নেই। তবে গভীর রাতে মাদ্রাসা থেকে চিৎকারের শব্দ ভেসে আসছিল। সকালে জানতে পারি সেখানে এক চোরকে মারধরে করে মেরে ফেলা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রসাদপুর দারুল উলুম ইসলামীয়া কওমি মাদরাসা ও এতিমখানার প্রধান শিক্ষক মাওলানা মাসুদুর রহমান বলেন, সেহরির জন্য মাদ্রাসায় রান্নার কাজ করা হচ্ছিল। এ সময় অপরিচিত এক ওই ব্যক্তিকে চোর সন্দেহে শিক্ষক সাব্বিরসহ কয়েকজন তাকে আটক করে। পরে গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর করে। একপর্যায়ে অচেতন হলে ফোনে আমাকে বিষয়টি জানানো হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি তিনি মারা গেছেন। পরে বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হয়।
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম মাসুদ রানা বলেন, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নিহত রফিকুল ইসলাম এলাকায় ছিঁচকে চোর ছিলো বলে জানা গেছে। তবে বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সময়ের আলো/আআ