অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে দেওয়া এক ভাষণে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বর্তমান বিশ্বব্যবস্থার নাজুক পরিস্থিতি তুলে ধরেছেন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ক্যানবেরায় দেওয়া এই ভাষণে তিনি মন্তব্য করেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর গড়ে ওঠা প্রচলিত আন্তর্জাতিক কাঠামো এখন ভেঙে পড়ছে। এই সংকটময় সময়ে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডাকে 'আত্মীয়তার সম্পর্কের' মতো গভীর কৌশলগত ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
প্রায় ২০ বছর পর কোনো কানাডিয়ান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে কার্নি বলেন, এখন বড় প্রশ্ন হলো নতুন বৈশ্বিক নিয়ম তৈরিতে মধ্যম শক্তির দেশগুলো ভূমিকা রাখবে, নাকি বড় শক্তিধর দেশগুলোই সব নির্ধারণ করে দেবে।
কার্নি তার বক্তব্যে খনিজ সম্পদ, প্রতিরক্ষা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি এর আগেও বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বলেছিলেন, পুরনো বিশ্বব্যবস্থা আর ফিরে আসবে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক দেশই আন্তর্জাতিক নিয়মের ওপর আস্থা হারিয়ে নিজেদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়াতে চাইছে। ভাষণের পর অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সঙ্গে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই নেতা প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা এবং মহাকাশ গবেষণায় সহযোগিতা বৃদ্ধির ঘোষণা দেন।
এই সফরের একটি বড় মাইলফলক হিসেবে অস্ট্রেলিয়া 'জি৭ ক্রিটিক্যাল মিনরালস অ্যালায়েন্সে' যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। কার্নি এই জোটকে বিশ্বের বৃহত্তম গণতান্ত্রিক খনিজ সম্পদ জোট হিসেবে অভিহিত করেন।
উল্লেখ্য যে, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া সম্মিলিতভাবে বিশ্বের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ইউরেনিয়াম ও লিথিয়াম এবং ৪০ শতাংশের বেশি লৌহ আকরিক উৎপাদন করে, যা তাদের বৈশ্বিক বাজারে অত্যন্ত শক্তিশালী অবস্থানে রেখেছে।
আলবানিজ জানান, অভিন্ন মূল্যবোধ ও নীতির কারণে দুই দেশকে কৌশলগতভাবে একে অপরের পাশে থাকা জরুরি।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভয়াবহ সংঘাত প্রসঙ্গে দুই প্রধানমন্ত্রী উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
তারা ইরানের ওপর সাম্প্রতিক হামলাগুলোকে সমর্থন করলেও সতর্ক করেছেন যে পরিস্থিতি যেন আর খারাপ না হয়।
তবে একটি কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়ে তারা বলেন, ইরান যতক্ষণ পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির সক্ষমতা পুরোপুরি না হারাবে, ততক্ষণ কোনো যুদ্ধবিরতি হওয়া উচিত নয়। মূলত বিশ্ব রাজনীতির এই অস্থির সময়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতেই কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া এই নতুন মেরুকরণের পথে হাঁটছে।
সময়ের আলো/আরবিএন