চাঁদা এখন নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাটবাজার থেকে শুরু করে সরকারি অফিস-আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। ফুটপাথে যিনি ব্যবসা করেন তাকেও কিছু চাঁদা দিতে হয়। সপ্তাহে হলিডে মার্কেট বলে বাজার বসে, সেখানেও এক দিনেই মোটা অঙ্কের চাঁদা ওঠে অভিযোগ রয়েছে। কোথায় নেই চাঁদা।
এ চাঁদা নিয়ে সরকার অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে। কারণ তার দলের নেতা-পাতি নেতারা এ চাঁদা তোলে। বিগত আওয়ামী সরকারের সময় এমনও দেখা গেছে, একজন প্রতিনিয়ত বিরাট এলাকাজুড়ে চাঁদা তোলে কোটিপতি বনে গেছেন। আর সেই কোটিপতি হওয়ার বদৌলতে তিনি আবার স্কুলের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হয়েছেন। অর্থাৎ ধুরন্ধর চাঁদাবাজরা কোথায় যেতে পারে তা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না।
চাঁদা এমন পর্যায়ে পৌঁছে গেছে যে, নতুন বাড়ি নির্মাণের ক্ষেত্রে যেমন চাঁদা না দিলে বাড়ির মালিককে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়, তেমনি নতুন কোনো ব্যবসা-বাণিজ্য শুরু করলেও চাঁদা দেওয়া যেন রেওয়াজ হয়ে গেছে। তবে এ চাঁদাবাজদের পেছনে রাজনৈতিক দলের নীরব সমর্থন থাকে তা অনেকের ধারণা। গতকাল সময়ের আলোতে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। যার শিরোনাম হচ্ছে— চাঁদাবাজদের গ্রেফতারে অভিযান চালাবে সরকার।
সংবাদটি নিঃসন্দেহে চমকপ্রদ ও আশার সঞ্চার করে। প্রকাশিত সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে, দেশজুড়ে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা করে তাদের বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযান চালানো হবে। আর এ কথাটি বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।
এই উদ্যোগ সফল হওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বিবেচনা সবার আগে ঊর্ধ্বে রাখলে ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা।
আশার কথা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, দেশব্যাপী বিশেষ করে ঢাকা থেকে অভিযান শুরু করব। চাঁদাবাজদের তালিকা প্রস্তুত করার ক্ষেত্রে থানার সহায়তার প্রয়োজন হবে। তালিকা অনুযায়ী চাঁদাবাজদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার কথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যক্ত করেছেন। এর পাশাপাশি যারা সন্ত্রাসী, দাগি আসামি, যারা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে তাদেরও একটি স্বচ্ছ তালিকা তৈরি করার নির্দেশ দিয়েছেন।
এ কথা আর নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না যে, বর্তমান সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা। যেন জনমনে স্বস্তি প্রদান করা যায়। একই সঙ্গে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা হয়।
মন্ত্রী নিজেই বলেছেন, আমরা দেশে আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। তবে এ ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা অগ্রগণ্য। বিগত সময়ে পুলিশবাহিনী বেশ কিছুটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
অনেকের মনোবল হারিয়ে গেছে। এ মনোবল ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে অভয় বাণী দিলেই চলবে না। এর সঙ্গে প্রয়োজন পুলিশের জন্য একটি নতুনভাবে নীতিমালা তৈরি করা। যেন কোনো অপরাধী বা চাঁদাবাজ ধরা পড়লে যেন কোনোভাবে রাজনৈতিক মহল থেকে কোনো ধরনের তদবির করা না হয়। পুলিশবাহিনী জনগণের বন্ধুর মতো কাজ করবে। যারা সমাজে অন্যায়-অবিচার করবে তাদের প্রতি যেমন হবে কঠোর।
আবার যারা শান্তিপ্রিয় তাদের সব ধরনের সহায়তার জন্য হাত বাড়িয়ে দিতে হবে। পুলিশবাহিনী হবে জনগণের বন্ধু।
সরকারের যে উদ্যোগ তা সাধুবাদ জানাতে হয়। পাশাপাশি সরকারের সচেতন থাকতে হবে যেন কোনো ধরনের নিরপরাধ মানুষ অযথা হয়রানির শিকার না হয়।
এফআর