ঈদ উপলক্ষে জমে উঠেছে নাটকপাড়া। লাইট-ক্যামেরা-অ্যাকশনে ব্যস্ত সময় কাটছে পরিচালক, অভিনয়শিল্পীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের। রোজার আগে থেকে শুটিং শুরু হলেও দিন বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরব হয়ে উঠেছে এই আঙিনা। চলছে নাটক, টেলিফিল্ম ও বিভিন্ন বিনোদনমূলক কনটেন্টের শুটিং। এই অবস্থা থাকবে চাঁদরাত পর্যন্ত। কিন্তু ঈদের এই মৌসুমে প্রাণ নেই শুটিং হাউসগুলোতে। শুটিংয়ের খরা প্রতিটি স্পটে। নাটক নির্মাণ হচ্ছে শুটিং হাউসের বাইরে রাজধানীর বিভিন্ন লোকেশনে।
গাজীপুরের পুবাইল, নবাবগঞ্জ, মানিকগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনেক নাটকের কাজ চলছে। আবার কোনো কোনো প্রযোজক-পরিচালক একাধিক নাটক ও ইউনিট নিয়ে বিদেশে গিয়ে নির্মাণ করছেন। ফলে নাটকের শুটিং বাড়ির অবস্থা ভালো যাচ্ছে না। অথচ ৫-৬ বছর আগেও ঈদের আগে হাউসগুলো দিন-রাত খোলা থাকত।
শুটিং চলত রাত-দিন। এখন দুই-চারটি কাজের মাধ্যমেই সচল রয়েছে হাতেগোনা কয়েকটি হাউস। এই অবস্থা দেখা দিয়েছে কয়েক বছর ধরে। শুটিং স্পটগুলো মাসের বেশিরভাগ সময়ই খালি থাকায় লোকসান গুনতে হচ্ছে হাউস মালিকদের। লোকসানের কারণে ইতিমধ্যে বন্ধ হয়ে গেছে অর্ধেক হাউস।
শুটিং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য মতে, বর্তমানে ১২টি হাউস টিকে আছে। কিন্তু কাজ নেই সব হাউসে। ৭-৮টি হাউসে গত এক মাসে গড়ে দুই-তিনটি কাজ হয়েছে।
সম্প্রতি রাজধানীর শুটিং হাউসে ও বিভিন্ন স্থানে ঈদের নাটক ‘প্রেমাতাল’-এর শুটিং হয়েছে। হাসিব হোসাইন রাখি পরিচালিত এই নাটকে অভিনয় করেছেন তৌসিফ মাহবুব ও নাজনীন নাহার নীহা। উত্তরার শুটিং হাউসগুলোতে এমন আরও কয়েকটি নাটকের শুটিং হলেও তা প্রত্যাশিত নয় বলেন মনে করছেন শুটিং হাউস ব্যবসায়ীরা।
শুটিং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল আলিম বলেন, রাজধানীর শুটিং হাউসগুলোর অবস্থা আগের মতো নেই। শুটিংয়ের অভাবে বন্ধ হয়ে গেছে অর্ধেকের বেশি হাউস। এখন সচল রয়েছে ১২ থেকে ১৩টি। তাও সব হাউসে কাজ নেই।
এখন অধিকাংশ নাটক-টেলিফিল্মের শুটিং চলে ঢাকার বাইরে। ঈদের মৌসুমেও খরা যাচ্ছে হাউসগুলোতে। তবে সম্প্রতি কয়েকটি হাউসে শুটিং চলছে। তবে সন্তোষজনক নয়। আমার স্বপ্নীল হাউসে রোজার মাসে মাত্র ৭-৮ দিন শুটিং হয়েছে। একটি বিজ্ঞাপনের শুটিং চলছে। অন্য হাউসগুলোর অবস্থাও একই। গত এক মাসে প্রতিটি হাউস দুই থেকে সর্বোচ্চ তিনটি কাজ করতে পেরেছে। অথচ ঈদের এই মৌসুমে আমরা শিডিউল দিতে পারতাম না। সারাদিন ও রাতভর চলত শুটিং। চাঁদরাত পর্যন্তও শুটিংয়ে জমজমাট থাকত উত্তরার হাউসগুলো।
শুটিং হাউস অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা খলিলুর রহমান বলেন, শুধু ঈদ নয়, সারা বছরই এখন সংকট চলে। হাউসগুলোতে আগের মতো শুটিং হয় না। আগে বুকিং নিয়ে সারতে পারতাম না। এখন প্রত্যাশানুযায়ী বুকিং পাচ্ছি না। অনেক নাটকের শুটিং চলছে ঢাকার বাইরে। গত এক মাসে কয়েকটি বুকিং পেলেও সবগুলো ঈদের কাজ না। এর মধ্যে ধারাবাহিক নাটকও আছে। ‘আপন ঘরে’ শুক্রবার একটি ঈদের নতুন নাটকের শুটিং হবে।
এ বিষয়ে টেলিভিশন ডিরেক্টর গিল্ডের সাধারণ সম্পাদক ফরিদুল হাসান বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতির প্রভাব নাট্যাঙ্গনেও পড়ে। তাই প্রত্যাশানুযায়ী নাটকে কাজ না হওয়ায় শুটিং হাউসগুলোতেও প্রভাব পড়েছে। নতুন সরকার দেশের দায়িত্ব নিয়েছেন। আশা করছি নাটকে গতি ফিরবে। তবে গল্পের গুরুত্বের কারণে এখন প্রচুর নাটকের শুটিং হয় ঢাকার বাইরে। অনেক সময় শুটিং হাউসের চেয়ে অন্যত্র বাড়তি সুবিধার কারণে বিকল্প চিন্তা করেন কোনো কোনো পরিচালক। ঈদের সময়েও সেই ধারাবাহিকতা চলছে।
এফআর