নরসিংদীতে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে দেখা করতে গিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন চার সন্তানের জননী এক নারী (৪০)। এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে থানায় মামলা হলে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এর আগে বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে নরসিংদীর মাধবদী থানার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খামারদী পদ্মারকান্দা এলাকার একটি মাছের খামারের পুকুরপাড়ে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার সকালে ভুক্তভোগী নারী মাধবদী থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। পরে বিকেলে মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে অভিযুক্ত রিদয় মিয়া (৩২) নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি মাধবদী থানার কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খরিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নারী নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার গোপালদী গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে তিনি নরসিংদীর মাধবদী পৌরসভার মেন্ডাতলা এলাকায় বসবাস করেন। বিগত তিন থেকে চার দিন ধরে মোবাইল ফোনে রিদয় মিয়া এক যুবকের সাথে ওই নারীর কথাবার্তা হচ্ছিল। তিনি আড়াইহাজারে আছেন জানতে পেরে রিদয় দেখা করার অনুরোধ করেন। পরে ওই নারী রাতে একাই অটোরিকশায় করে মাধবদীর কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের খামারদী পদ্মারকান্দা এলাকায় যান।
সেখানে রাস্তায় কথা বলার একপর্যায়ে রিদয় তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। প্রস্তাবে রাজি না হলে রিদয় তাকে জোর করে রাস্তা থেকে পুকুরপাড়ের দিকে টেনে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকে ওত পেতে থাকা আরও তিনজন অজ্ঞাত ব্যক্তি তাকে ফেলে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আরও পড়ুন
ঘটনার পর অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোন ও টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করতে বলে। পরে তিনি দৌড়ে পাশের একটি পাওয়ারলুম কারখানায় গিয়ে আশ্রয় নেন এবং সেখানে কর্মরত লোকজনকে ঘটনাটি জানান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর সীমান্তবর্তী এলাকায় ঘটেছে। প্রথমে ভুক্তভোগী নারী আড়াইহাজার থানায় বিষয়টি জানান। পরে ঘটনাস্থল নরসিংদীর মধ্যে হওয়ায় আমাদের জানানো হলে আমরা রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করি।
তিনি বলেন, ভুক্তভোগী প্রথমে কারও নাম বলতে পারেননি। তবে মোবাইল নম্বরের সূত্র ধরে রিদয় মিয়াকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের পরিচয়ও শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। ভুক্তভোগী নারীর মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। গ্রেফতার আসামিকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
এএডি/