বিটরুট বা বিট কপি একটি শীতকালীন কন্দাল ফসল। উজ্জ্বল রঙ এবং পুষ্টিগুণের জন্য এই ফসল জনপ্রিয়। প্রথমবারের মতো সবজির প্রাণকেন্দ্র সাঙ্গু নদীর তীরে ফকিরার চরে এ ফসল উৎপাদন হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রক্ত বাড়ানো, হৃদযন্ত্র ভালো রাখা এবং শরীর শক্তিশালী করার প্রাকৃতিক ঔষধ এই বিটরুট।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা জানা যায়, কৃষি অফিসের সহায়তায় কাশেম নামের এক কৃষক প্রথম এই বিটরুট চাষাবাদ করেন। পরীক্ষামূলকভাবে ১০ শতাংশ জমিতে চাষাবাদ করা হয়েছে। বাজারে খুচরো প্রতি কেজি ৫০/৬০ থেকে শুরু করে ৭০/৮০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করা হয় বলে জানান এই কৃষক।
আবাদ করা কৃষক মোহাম্মদ কাশেম জানায়, সঠিক পরিচর্যা থাকলে বীজ বপনের ৯০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যে যখন কন্দগুলো উপযুক্ত আকার ধারণ করবে, তখন সাবধানে বিটরুট তুলে ফসল সংগ্রহ করা হয়। এবার ৯০০ কেজি ফসল চাষাবাদ করেছেন যার বাজার মূল্য এক লক্ষ টাকা হবে বলেও জানান তিনি।
উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আকাশ দাশ জানান, এ ফসল চাষের জন্য প্রথমে সঠিক সময় এবং পরিবেশ নির্বাচন করা অত্যন্ত জরুরি। বিটরুট বীজ বপনের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর মাস (শীতের শুরু), কারণ এটি ঠান্ডা আবহাওয়া পছন্দ করে এবং ভালোভাবে বেড়ে ওঠার জন্য প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পূর্ণ সূর্যালোক প্রয়োজন।
এই ফসল চাষের জন্য দোআঁশ বা বেলে-দোআঁশ মাটি সবচেয়ে উপযুক্ত, যা অবশ্যই ঝুরঝুরে ও উন্নত জল নিষ্কাশন ক্ষমতাসম্পন্ন হতে হবে। আমরা প্রথমবারে সাঙ্গু নদীর তীর এলাকা ফকিরার চরে পরীক্ষামূলকভাবে এই ফসল উৎপাদনে কৃষকদের আগ্রহী করে তুলি। এর মাধ্যমে আমরা সাফল্যও পাই।
তবে কৃষিবিদরা মনে করছেন, নতুন এই পদ্ধতিতে কম খরচে বীজ রোপণের ৫৫ দিন পর প্রতি হেক্টরে ২৫ টন ফলন পাওয়া সম্ভব বলে দাবি করেছেন গবেষকরা। এটি শীতকালীন ফসল হলেও আমন ধান কাটার পর বোরো ধান রোপণের আগেও পতিত জমিতে অল্প সময়ে চাষ করা যায় বলে জানান তারা।
এদিকে উপজেলার জয়কালী হাটে হেলাল নামের এক সবজি বিক্রেতাকে এই বিটরুট বিক্রি করতে দেখা যায়।
তিনি বলেন, এই ফসলের বাজারে চাহিদা রয়েছে। এই ফসল বাজারে নতুন এবং দাম মোটামুটি। আমি ৫৫ টাকা করে ফকিরার চর থেকে কিনে এনে বাজারে ৭০ থেকে ৮০ টাকা বিক্রি করছি।
আনোয়ারা উপজেলা কৃষি অফিসার শামীম আহমদ সরকার বলেন, আমরা কৃষির নতুন সম্ভাবনা কাজে লাগাতে চেষ্টা করছি। স্বাস্থ্যের জন্য ভালো এই ফসল গুলো উৎপাদনে কৃষকদের আগ্রহী করে তুলছি। এবার প্রথম আমরা বিটরুট উৎপাদনে সফলতা পেয়েছি। আশা করছি আগামীতে এই চাষাবাদ আরো বৃদ্ধি পাবে।
সময়ের আলো/আরবিএন