উত্তরের জেলা নাটোর ফিলিং স্টেশনগুলোতে অকটেন ও ডিজিল ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এতে জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল বিক্রয় বন্ধ করে দেয় মালিকরা। তবে প্রশাসনের অভিযানে পর কিছু কিছু এলাকায় জ্বালানি বিক্রি শুরু করে ফিলিং স্টেশন মালিকরা।
শনিবার (৭ মার্চ) জেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।
চলমান ইরান যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা এবং সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ী বন্দরের ডিপো তেল সরবরাহ না থাকায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও জ্বালানি তেল পায়নি গ্রাহকরা।
তারা বলছেন, চাহিদামতো জ্বালানি পাওয়া যাচ্ছে না। সরবরাহ না থাকায় কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। যে সব স্টেশনে তেল রয়েছে, তারাও সীমিত পরিমাণে তেল বিক্রি করছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যানুযায়ী, নাটোর শহরে ১৬টি, জেলায় ৩২ থেকে ৩৫টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে। গত তিন দিন ধরে এসব স্টেশনে পেট্টোল ও অকটেন সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
তবে ডিজেল সীমিত আকারে পাওয়া গেলেও মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকারের জ্বালানির মিলছে না। শনিবার সকাল থেকে শহরের উত্তারা ফিলিং স্টেশন, গনি ফিলিং স্টেশন, আনোয়ারা ফিলিং স্টেশন, রহমান ফিলিং স্টেশন, এফএনএফ ফিলিং স্টেশন, ফ্রেন্ডস ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা যায়, সবাই জ্বালানি নিতে এসে ঘুরে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই নাটোরে জ্বালানি সংকট শুরু হয়। শুক্র ও শনিবার এই দুদিন সরকারি অফিস বন্ধ থাকায় শনিবার দিনভর বেশিরভাগ ফিলিং স্টেশন তেল সরবরাহ বন্ধ করে দেয়।
পরে নাটোর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফ আদনান এবং সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ফরহাদ আহমেদের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালনা করা হলে জ্বালানি বিক্রি শুরু হয়। তবে চাহিদামতো তেল দিতে না পারায় কোনো কোনো স্টেশনে ৫০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া হয়নি। ফলে সকাল থেকেই নাটোর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে বাইকারদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে।
শনিবার বিকেল ৫টার দিকে দিঘাপতিয়া উত্তারা ফিলিং স্টেশন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার ফরহাদ আহমেদ ওই ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি মজুদ থাকার সন্ধান পান। পরে জ্বালানি বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়।
দিঘাপতিয়া এলাকার বাসিন্দা আরমান হোসেন জানান, গাড়িতে অকটেন তুলতে গিয়ে পাওয়া যায়নি। ফিলিং স্টেশন থেকে বলা হয়েছে রোববার থেকে পাওয়া যাবে।
বঙ্গজল এলাকার মোহাম্মাদ আলী জানান, শনিবার দুপুরের আগে শহরের মাদ্রাসা মোড়, বড় হরিশপুর এলাকায় পাঁচটি ফিলিং স্টেশন ঘুরে জ্বালানি পায়নি।
পেট্রোলিয়াম ডিলার্স, ডিস্ট্রিবিউটর্স, এজেন্টস অ্যান্ড পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নাটোরের সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সরবরাহে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ফিলিং স্টেশনগুলো চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল পাচ্ছে না। ফলে গ্রাহকদের চাহিদামতো জ্বালানি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
সময়ের আলো/আআ