উত্তর কোরিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে হারের ক্ষত ভুলে নতুন উদ্যমে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দল। মানসিকভাবে ভেঙে না পড়ে বরং ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে পরবর্তী ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া বাংলাদেশের মেয়েরা। বর্তমানে পার্থে অবস্থান করা দলের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এমন ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন দলের সঙ্গে থাকা ফিজিওথেরাপিস্ট ইসনাদ জামান।
ইসনাদ জানান, উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ৫-০ গোলের বড় হারের পর শুরুতে মেয়েরা কিছুটা আপসেট থাকলেও দ্রুতই তারা স্বাভাবিক ছন্দে ফিরেছে। দলের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি বলব ম্যাচটা মানসিকভাবে বেশ কঠিন ছিল। ম্যাচের পরপরই মেয়েরা কিছুটা আপসেট ছিল, তবে আমার মনে হয় সেটা হওয়াটাই স্বাভাবিক ছিল। তবে তারা দ্রুতই আবার ছন্দে ফিরেছে। আমরা আজ পার্থে পৌঁছেছি। সত্যি বলতে, সব ফুটবলারই এখন বেশ ভালো বোধ করছে। চীনের সঙ্গে ম্যাচটা শারীরিকভাবে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং ছিল। এখন সব খেলোয়াড়ই মোটামুটি সুস্থ আছে, বড় কোনো ইনজুরি নেই। ছোটখাটো কিছু সমস্যা আছে, যা আমাদের আজ দেখতে হবে। আমরা পার্থের হোটেলে পৌঁছেছি এবং আমাদের মেডিকেল রুম গুছিয়ে নিচ্ছি। পরবর্তী সময়ে আমরা তাদের ট্রিটমেন্ট শুরু করব। তবে মেয়েরা বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছে। আমরা হালকা স্ট্রেচিং ও শরীর নাড়াচাড়া করার সেশন করেছি। তারা হাসিখুশি আছে, আবার একই সঙ্গে পরবর্তী ম্যাচের জন্য বেশ মনোযোগী ও প্রস্তুত।’
শারীরিক অবস্থার আপডেট দিয়ে তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, চীন ও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে টানা খেলার ধকল থাকলেও দলে বড় কোনো ইনজুরি সমস্যা নেই; ছোটখাটো কিছু সমস্যা থাকলেও নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে ফুটবলারদের ফিট রাখার কাজ চলছে।
চীনে প্রথম ম্যাচে ভালো পারফরম্যান্সের পর দ্বিতীয় ম্যাচে নিজেদের সেরাটা দিতে না পারার আক্ষেপ রয়েছে দলের মধ্যে। তবে কোরিয়ার শক্তিমত্তাকে স্বীকৃতি দিয়ে মেয়েরা এখন পরবর্তী চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত। ইসনাদ জামান আরও যোগ করেন, দলের কারিগরি ও মেডিকেল টিম অত্যন্ত সুসংগঠিতভাবে কাজ করছে এবং মেয়েদের পেশাদারিত্বের গ্রাফ দিন দিন ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আমি আসলে একদম শেষ মুহূর্তে এই দলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছি। মূল ফিজিওথেরাপিস্ট হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ায় আমি তার বদলি হিসেবে এসেছি। আমি বাংলাদেশে তার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি যাতে আমি দল ও মেয়েদের অবস্থা ভালোমতো বুঝতে পারি। এত বড় একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে আসার জন্য প্রস্তুতির প্রয়োজন ছিল। তবে আমি খুব দ্রুতই মেয়েদের সঙ্গে মানিয়ে নিয়েছি। তারা সবাই বেশ ইতিবাচক এবং পেশাদারিত্বের দিক থেকে তারা অনেক উন্নতি করছে।’
বর্তমানে পার্থের নাডাও পার্কে হালকা স্ট্রেচিং ও অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেদের ঝালিয়ে নিচ্ছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। একটি পূর্ণাঙ্গ ট্রেনিং সেশনের পর উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে মাঠে নামবে বাংলাদেশ দল।