বাংলা কবিতায় তারুণ্যের শক্তি ঐতিহ্যগতভাবেই গুরুত্বপূর্ণ। এই ধারাবাহিকতায় প্রকাশিত হলো কবি হেমায়েত উল্লাহ ইমনের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘ফেনাফুল’, প্রকাশক ঐতিহ্য। প্রথম কাব্যগ্রন্থের পান্ডুলিপির জন্য তিনি অর্জন করেছেন ‘ঐতিহ্য-শান্তনু কায়সার সাহিত্য পুরস্কার ২০২৫’।
বর্তমান সময়ে যেখানে শব্দের চেয়ে রিলসের জীবন বেশি গুরুত্ব পায়, সেখানে বিপরীতমুখী যাত্রায় দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে নিজস্ব শব্দের বুননকৌশলে নিজেকে প্রস্তুত করেছেন ইমন। ‘ফেনাফুল’ মূলত জলজ বাসনার কাব্য। নারী ও শরীরের রূপক, যা কখনো হয়ে ওঠে ভূমি কিংবা দেশ। ইমনের কবিতায় প্রেম ঘামে ভেজা, ঋতুচক্রে ক্লান্ত, আবার যৌনতায় দ্বিধাগ্রস্ত। প্রচলিত সীমা ভেঙে কবিতাগুলো পাঠককে এক জটিল দ্বিধার ভেতর নিক্ষেপ করে।
কবির কাছে শরীর এক জটিল উত্তরাধিকার। আঞ্চলিক কৃষিজ ভাষা, আধুনিক নগর-চিহ্ন এবং বৈজ্ঞানিক রূপকের সমন্বয়ে তিনি নির্মাণ করেছেন নিজস্ব কাব্যভাষা। ‘ফেনাফুল’ ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা ও সমষ্টিগত ক্ষয়ের এক শৈল্পিক রূপ। এই কাব্যগ্রন্থ পাঠ মানে মাটি, ফসল, ঘাম, কামনা ও ইতিহাসের নিষ্ঠুরতায় এক দীর্ঘ, মনোমুগ্ধকর পদচারণা।
শূন্য দশকের কবি ও নাট্যকার জাহিদ সোহাগ বলেন, ইমন প্রথম বইতেই স্বাতন্ত্র্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। মুক্তগদ্যের ভেতর কাব্যিক ব্যাপারটি দারুণভাবে রয়েছে। তিনি শব্দগুলো চিনেন, ব্যবহার করতে জানেন। পরবর্তী বইতে কতটুকু ধরে রাখতে পারবেন সেটি দেখার বিষয়।
কবি হেমায়েত উল্লাহ ইমন বলেন, দৃশ্যই বেশি, মাঝেমধ্যে মিথ ও গীতে থেমেছি। বিলুপ্তপ্রায় ছয়ঋতুর মাঝে বিপন্ন কৃষিজীবনের ভেতর বেড়ে ওঠার অনিবার্য পরিণতি এবং যৌবনের চূড়ান্ত সময়গুলো—দুটি বড়ো ও বিপরীতমুখী শহর সিলেট ও ঢাকার ফুটপাতে প্রতিদিন নিজেকে টেনে নেওয়ার ক্লান্তি ভিড় করেছে পঙক্তিগুলোয়। গোপনীয়তা আছে, সন্দেহের ভেতর প্রেম ও যৌনতার আলোছায়া আছে, আধ্যাত্মিক অনিশ্চয়তার অনুভূতিও আছে।
কাব্যগ্রন্থটির প্রচ্ছদ করেছেন নাওয়াজ মারজান এবং ১৭০ টাকা মুদ্রিত মূল্যে ৫৮১–৫৮৬ নম্বর স্টলে পাওয়া যাচ্ছে।
/এমএইচআর