পশ্চিম এশিয়ার চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ঘিরে যুক্তরাজ্যকে কটাক্ষ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সংঘর্ষে সহায়তার জন্য ব্রিটেন যে দুটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছিল, তা যুক্তরাষ্ট্র নাকচ করে দিয়েছে।
শনিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ জিতে যাওয়ার পর কেউ যদি সেই যুদ্ধে যোগ দিতে চায়, তাহলে তাদের আর প্রয়োজন নেই।
ট্রাম্পের দাবি, পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে ইতোমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র জয় লাভ করেছে। সেই কারণেই ব্রিটেনের যুদ্ধজাহাজ পাঠানোর প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়নি।
নিজের পোস্টে তিনি লেখেন, ব্রিটেন এক সময় আমাদের মহান বন্ধু ছিল, হয়তো সবার চেয়েও মহান। এখন তারা পশ্চিম এশিয়ায় দুটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর কথা ভাবছে। ঠিক আছে, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার—আমাদের আর সেগুলোর প্রয়োজন নেই। আমরা মনে রাখব, কিন্তু যুদ্ধ জিতে যাওয়ার পর কেউ এসে যোগ দিক, সেটা চাই না।
পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ব্রিটেনের ভূমিকা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন ট্রাম্প। তার অভিযোগ, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রকে যথাযথ সহায়তা করেনি ব্রিটেন। এমনকি মার্কিন বাহিনীকে ব্রিটিশ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতিও দেওয়া হয়নি।
এতে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের দীর্ঘদিনের ‘ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বাহিনী ইরানের ওপর হামলা চালায়। ওই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন বলে দাবি করা হয়। এরপর থেকেই পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
যুদ্ধের শুরুতে যুক্তরাজ্য সরাসরি এতে জড়ায়নি। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেছিলেন, মার্কিন বাহিনীকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার আগে সামরিক পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে বৈধ কি না, তা নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
পরে ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রকে ব্রিটিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হতে পারে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে ব্রিটেনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পশ্চিম এশিয়ায় বিমানবাহী রণতরী ‘এইচএমএস প্রিন্স অব ওয়েলস’ পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে বলেও জানান।
এই পদক্ষেপের ঘোষণার পরই সামাজিক মাধ্যমে ব্রিটেনকে কটাক্ষ করেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
/ইউএমএইচ