কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় পোল্ট্রি মুরগি খামারগুলোতে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাসজনিত রোগের প্রকোপ বেড়েছে। উপজেলার খামার গুলোতে হাজার হাজার মুরগি বিভিন্ন ভাইরাস জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে মাংস ও ডিম উৎপাদন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। খামারিদের অভিযোগ, খোলা ট্রাকে মুরগির বিষ্ঠা পরিবহনের কারণে ভাইরাস ছড়াচ্ছে।
পোল্ট্রি খামারিরা জানান, নিয়মিত ওষুধ প্রয়োগ করেও রোগ প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না।
খামারি সুমন খান জানান, তার ফার্মে প্রায় আড়াই হাজার সোনালি বাচ্চা উঠেছিল। ঈদে বিক্রি করে তিনি কিছু আয় করার পরিকল্পনা করেছিলেন। তবে রোগের কারণে তিনি ভয়ে দিন পার করছেন।
তিনি আরও বলেন, তার বাড়ির সামনে দিয়ে প্রতি রাতে ট্রাকভর্তি মুরগির তরল বিষ্ঠা পরিবহণ করা হয়। বার বার চেষ্টা করেও বিষ্ঠা পরিবহন বন্ধ করা যায়নি। খোলা ট্রাকে বিষ্ঠা পরিবহণে ভাইরাসে ছড়িয়ে পড়ে।
হাপানিয়া গ্রামের পোল্ট্রি ব্যবসায়ী মো. শফিক জানান, এসব বিষ্ঠার সাথে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাস পরিবাহিত হয়। পরবর্তীতে এগুলো স্থানীয় খামারে ছড়িয়ে পড়ে খামারের জৈব-পরিবেশ নষ্ট করে।
পোল্ট্রি খামারিরা জানান, গত এক সপ্তাহে উপজেলায় প্রায় ৫০ হাজার মুরগি ভাইরাসজনিত রোগ দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পাকুন্দিয়া বাজারের পোল্ট্রি ফিড ব্যবসায়ী আবুল হোসেন জানান, এ মাসের মধ্যে তার প্রায় ২০ হাজার মুরগি ভাইরাসে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এবারের ভাইরাসের কারণে যে ক্ষতি হয়েছে তা অপূরণীয়। আমরা করোনায়ও এমন ক্ষতির সম্মুখীন হইনি।
পাকুন্দিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আলী আকবর বলেন, খামারিয়া নিয়মিত টিকা প্রদান না করায় রোগের প্রকোপ একটু বেশি। আবার টিকার পরিবহন এবং রক্ষণাবেক্ষণের ত্রুটির কারণে কার্যকারিতা বা গুণাগুন নষ্ট হয়ে যায়। এই কারণে ভাইরাস দ্রুত ছড়ায় এবং খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, পাকুন্দিয়া উপজেলায় প্রায় ৭৭৫ টি পোল্ট্রি ফার্ম রয়েছে। এখন প্রতিদিনই মুরগি মারা যাচ্ছে। আমরা নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে পাঠাচ্ছি।
পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম আরিফ বলেন, তরল বিষ্ঠা পরিবহন ও পরিবেশ দূষণের ব্যাপারে আমি অবগত নই। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।
সময়ের আলো/আআ