চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় এক কৃষক বাবাকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতের নাম মো. জাকির হোসেন মিয়াজি (৪৫)।
নিহত জাকির হোসেন উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের হরিনা গ্রামের বাসিন্দা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাকির হোসেন মিয়াজির এক মেয়ে স্থানীয় নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া-আসার পথে কয়েকজন যুবক তাকে দীর্ঘদিন ধরে উত্ত্যক্ত করত বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন, নিশ্চিন্তপুর গ্রামের নাছির হোসেন মিয়াজির ছেলে ফাইম মিয়াজী (২৪), আইনুল কবির ফটিকের ছেলে মো. সাফিন (২৩), নওদোনা গ্রামের মিজান বেপারীর ছেলে রিফাত বেপারী এবং মহসিন শিকদারের ছেলে রিয়াদ শিকদারসহ আরও ১০ থেকে ১৫ জন যুবক।
পরিবার ও স্থানীয়দের দাবি, মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার বিষয়টি জানতে পেরে জাকির হোসেন মিয়াজি বিষয়টি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে অভিযোগ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় নিশ্চিন্তপুর বাজার এলাকায় জাকির হোসেনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাকে বেধড়ক মারধর করলে তিনি গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয় লোকজন গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে থেকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে অবস্থার আরও অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। টানা ১৩ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আজ রোববার ভোর ৫টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান জাকির হোসেন।
এদিকে, এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই হোসেন মিয়াজি চাঁদপুর আদালতে একটি মামলা করেছেন বলে জানা গেছে।
নিহতের স্ত্রী পারভীন আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামী একজন সাধারণ কৃষক মানুষ ছিল। মেয়েকে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় তাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়েছে। আমার ছোট ছোট সন্তান আছে। এখন তাদের নিয়ে আমি কীভাবে বাঁচবো? আমি আমার স্বামী হত্যার সঠিক বিচার চাই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে নিশ্চিন্তপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আরিফুল্ল্যা বলেন, আমি কিছু জানি না। আমাকে কেউ অবহিত করেনি।
মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, জাকির হোসেন মিয়াজি আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় নতুন করে হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান চালাবে।
এফআর