নানা আয়োজনে গতকাল দেশে দেশে উদযাপন করা হযেছে আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এই দিনটি বিশ্বব্যাপী নারীদের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অবদানকে সম্মান জানাতে এবং লিঙ্গ সমতা, অধিকার ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামকে সামনে আনতে উদযাপন করা হয়। বিভিন্ন দেশে সরকার, সুশীল সমাজ, নারী সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ নিজ নিজ রীতিতে দিনটি পালন করছে।
প্যারিস, রোমসহ সারা বিশ্বে নারীর জয়গান : ইউরোপের বিভিন্ন শহর যেমন রোম, মিলান ও প্যারিসে ‘ইউরোপিয়ান ফেস্টা দেলা ডোনা’ নামে নারীদের জন্য বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও স্থানীয় সংগীত, শিল্প প্রদর্শনী ও প্রচার কাজ করছে। ইতালিতে ‘লা ফেস্তা দেলা ডোনা’ নামে বিশেষ নারী দিবস উদযাপন আয়োজন, যেখানে নারীর সামাজিক ভূমিকা, সৃজনশীলতা এবং সাংস্কৃতিক অবদানকে উদযাপন করা হচ্ছে।
চীনে উচ্চ পর্যায়ের সংলাপ ও আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি : চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে উচ্চ পর্যায়ের সংলাপ হয়েছে, যেখানে সরকারি নেতারা, নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা ও জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা নারীর অধিকার, ন্যায়বিচার ও বাস্তব কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেন। চীনা কর্মকর্তারা বলেন, দেশের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা নারীর অংশগ্রহণ ও ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার জন্য কঠোর উদ্যোগ নিচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে চান।
উন্নয়ন ও অধিকার নিয়ে বার্তা : অনেকে বলেন, আন্তর্জাতিক নারী দিবস কেবল এক দিনের উদযাপন নয়; এটি নারীর পূর্ণ অধিকার ও সমতা অর্জনের জন্য একটি চলমান আহ্বান। বাংলাদেশের জাতীয় পর্যায়েও এই বিষয়টি সামনে এসেছে, যেখানে বিভিন্ন সরকারি বার্তায় ও গণমাধ্যমগুলোতে নারীর উন্নয়ন, সমতা ও ন্যায়বিচার বাস্তবায়নের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
বিশ্বের বিভিন্ন কোনে সমাবেশ ও আন্দোলন : আন্তর্জাতিকভাবে ‘ওয়ান বিলিয়ন রাইজিং’-এর মতো উদ্যোগগুলোতে দেখা যাচ্ছে গান, নৃত্য ও জনসমাবেশের মাধ্যমে নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা, বৈষম্য ও অবহেলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও সচেতনতা তৈরি হচ্ছে। এ ধরনের সমাবেশ আফ্রিকা, এশিয়া, উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপসহ বহু অঞ্চলে চলছে ও চলবে।
ইতিহাস ও লক্ষ্য : আন্তর্জাতিক নারী দিবসের সবচেয়ে বড় উদ্দেশ্য হলো নারীর অবদানকে সম্মানিত করা এবং লিঙ্গ সমতা, সম্মান ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য সবার সঙ্গে কাজ করা। প্রায় এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বিশ্বজুড়ে নানা আন্দোলন ও সংগ্রামের ফলেই এই দিনটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে- যেখানে শ্রমিক‑ওয়ার্কার্সের অধিকার, ভোটাধিকারের দাবি ও নারীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের ইতিহাস লেখা হয়েছে।
সময়ের আলো/কেএইচও