অস্ট্রেলিয়ার পার্থে যখন আজ বিকালে বাংলাদেশ নারী দল মাঠে নামবে, তখন তাদের জন্য এটা শুধু ৯০ মিনিটের ফুটবল ম্যাচ নয়, বরং এশিয়ান ফুটবলের মঞ্চে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের আরও একটি সুযোগ। এএফসি নারী এশিয়ান কাপে গ্রুপ ‘বি’তে নিজেদের শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। চীন ও উত্তর কোরিয়ার মতো এশিয়ার দুই পরাশক্তির বিপক্ষে লড়াইয়ের পর এবার বাংলাদেশের সামনে মধ্য এশিয়ার শক্ত প্রতিপক্ষ উজবেকিস্তান। সমীকরণের মারপ্যাঁচে কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশ খেলতে পারবে কি না সেটার চেয়েও বড় প্রশ্ন উজবেকিস্তানকে হারিয়ে একটা জয় কি পাবে পিটার বাটলারের দল!
চীন ও উত্তর কোরিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে খেলে মেয়েরা কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হয়। তবে এটা আফঈদাদের জন্য এক দারুণ শিক্ষার উপলক্ষ। এমন মঞ্চে আগে খেলার অভিজ্ঞতাও যে নেই তাদের। কোচ পিটার বাটলার জানান, সাড়ে উনিশ গড় বয়সের এই তরুণ দলের জন্য প্রতিটি দিনই শেখার একেকটি ধাপ। উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে বড় হারের ধাক্কা কাটিয়ে মেয়েদের ইতিবাচক মানসিকতা ধরে রাখাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। ম্যাচের আগের দিন গতকাল অনুশীলনেও সেই ছাপ দেখা যায়।
টুর্নামেন্টের শুরুটা বাংলাদেশ করেছিল দুর্দান্ত এক লড়াই দিয়ে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে ২-০ গোলে হারলেও তারুণ্যনির্ভর দলটির পারফরম্যান্স আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও বেশ প্রশংসিত হয়েছে। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে মুদ্রার উল্টো পিঠ দেখে তারা। বাস্তবতা অনুধাবন করতে পারে পিটার বাটলারের শিষ্যরা। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের ৯ নম্বরে থাকা দলটির কাছে ৫-০ গোলের হার কিছুটা হতাশাজনক হলেও এটাই ছিল স্বাভাবিক। বাংলাদেশের জন্য এটি ছিল সর্বোচ্চ পর্যায়ের ফুটবলের অভিজ্ঞতার পাঠশালা।
উজবেকিস্তানও তাদের প্রথম দুই ম্যাচে চীন ও উত্তর কোরিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে হেরেছে। র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে থাকলেও (উজবেকিস্তান ৪৯, বাংলাদেশ ১১২) মাঠের লড়াইয়ে দুদলের সাম্প্রতিক ফর্ম প্রায় সমান। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ জিততে পারলে সেরা তৃতীয় দল হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে খেলার সুযোগ হতে পারে!
তবে কোচ পিটার বাটলার দলকে চাপমুক্ত রাখতে সরাসরি জয়ের কথা না বললেও মাঠে সর্বোচ্চ চেষ্টাই করবেন। ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে বাটলার বলেন, ‘আমাদের ইতিবাচক হতে হবে। মেয়েরা ভুল করবে, তারা নতুন কিছু করার চেষ্টা করবে। যতক্ষণ তারা গেম প্ল্যান এবং নিয়ম মেনে চলবে, ততক্ষণ ঠিক আছে। আমি মনিকাকে মাঠের মাঝখানে ড্র্যাগ-ব্যাক করতে দেখতে চাই না। আমাদের বাস্তববাদী হতে হবে। হার-জিত যাই হোক না কেন সবচেয়ে বড় বিষয় হলো তারা যেভাবে অংশগ্রহণ করেছে এবং নিজেদের তুলে ধরেছে। তবে আগামীকাল (আজ) যাই ঘটুক না কেন, আমি তাদের নিয়ে গর্বিত।’
অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার ম্যাচের আগে বেশ আত্মবিশ্বাসী। তিনি জানান, উজবেকিস্তানের বিপক্ষে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টাই করবেন। আর মাঠেই সেটার করে দেখাতে চান। আফঈদা বলেন, ‘আমাদের এখানে হারানোর কোনো কিছু নেই। আমরা প্রথমবারের মতো এখানে কোয়ালিফাই করেছি, আমাদের দেশকে এখানে রিপ্রেজেন্ট করতে পেরেছি এটি আমাদের কাছে অনেক গর্বের বিষয়। ইনশাআল্লাহ ভালো কিছু হবে। সবাই দোয়া করবেন আমাদের জন্য।
আমার কাছে মনে হয় যে কথার চেয়ে কাজটাই আমি বেশি করি, এটাই ভালো হবে। কথা বলতে গেলে অনেক কিছুই বলা যায়, কাজে অনেক কিছু করা যায় না। কাজে করে দেখালে কথা না বললেও হয়।’ পার্থের রেক্ট্যাঙ্গুলার স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ ম্যাচটি খেলবে। এর আগের দুই ম্যাচ ছিল সিডনির ওয়েস্টার্ন স্টেডিয়ামে।
সময়ের আলো/কেএইচও