লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কোটি টাকা বরাদ্দে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ তছরুপের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের মোজাহিদের বিরুদ্ধে। সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে নামমাত্র কাজ দেখিয়ে বিপুল অঙ্কের টাকা আত্মসাতের এই ঘটনায় স্থানীয় জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এমন ঘটনাকে ‘কাগজে-কলমে’ উন্নয়ন বলছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি), উপজেলা রাজস্ব খাত ও হাট-বাজার উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৯৭ লাখ টাকার বরাদ্দ আসে।
উপজেলা প্রকৌশলী নিজের আখের গোছাতে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে কিছু ‘লাভজনক’ প্রকল্প তৈরি করেন। কোটেশন প্রক্রিয়ায় (আরএফকিউ) আইসিটি মেরামত, শিক্ষা অফিস মেরামত, প্রকৌশলী কার্যালয়ের ইন্টেরিয়র ডিজাইন এবং প্রশাসনিক ভবন মেরামতের নামে একাধিক প্রকল্পে ৬ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দিয়ে নামমাত্র কাজ করে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, উন্মুক্ত ই-জিপি টেন্ডার প্রক্রিয়া এড়িয়ে প্রকৌশলী তার পছন্দের দুটি প্রতিষ্ঠান— মেসার্স ফয়সাল ব্রাদার্স ও মেসার্স আনাস এন্টারপ্রাইজকে বারবার কাজ পাইয়ে দিচ্ছেন। একই কাজ বারবার মেরামত দেখিয়ে বিল উত্তোলনের মাধ্যমে এই সিন্ডিকেট সরকারি অর্থ লুটপাটে লিপ্ত বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ঠিকাদাররা।
সরেজমিনে ভয়াবহ চিত্র
উপজেলার চরমার্টিন বলির পোল এলাকায় সাড়ে ৬ লাখ টাকার মাটির কাজে খরচ করা হয়েছে মাত্র ৫০ হাজার টাকা। কালভার্ট নির্মাণের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা, দুটি কালভার্টের বরাদ্দ থাকলেও একটির হদিস মেলেনি। অন্যটি এতটাই নিম্নমানের যে জোয়ারের স্রোতে ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা পরিষদের জন্য নতুন আইপিএস ক্রয়ের নামে ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ থাকলেও অফিসে শোভা পাচ্ছে পুরোনো আইপিএস। সাউন্ড সিস্টেম ও টয়লেট মেরামতের ক্ষেত্রেও পুরোনো মালামাল রং-চং করে নতুন হিসেবে চালিয়ে দেওয়া হয়েছে।
গেজেটেড ও নন-গেজেটেড কোয়ার্টার বারবার মেরামত করা হলেও ফের মেরামতের নামে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাই ক্ষুব্ধ হন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স আনাস এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ফয়সাল।
তিনি উদ্ধত স্বরে বলেন, আমি সাংবাদিকদের কেন বলব? আমি কাজ পেয়েছি, কাজ করিয়েছি।
জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল কাদের মোজাহিদ অনিয়মের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, প্রকল্পের কাজ চলছে, বিস্তারিত উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভালো জানেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রশাসক মো. রাহাত উজ জামান জানান, আগের ঠিকাদাররা কিছু কাজ করেছেন। তবে আগামীতে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে নতুন টেন্ডারে নতুন ঠিকাদাররা কাজ করবেন বলে আশ্বস্ত করেন তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, সরকারের এই বিশাল অঙ্কের অর্থের অপচয় রোধে এবং দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় তদন্ত ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।
এফআর